কেমব্রিজ: ‘জয় শ্রীরাম’— মোদি, নাড্ডা কিংবা অমিত শাহ নন। রামধ্বনি শোনা গেল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের মুখে। সেদেশে ‘রামকথা’র একটি অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরুই করেন জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে। বলেন, আমি এখানে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসিনি। একজন হিন্দু হিসেবে এসেছি। প্রখ্যাত হিন্দু ধর্মগুরু মুরারি বাপুর রামকথা শ্রবণ অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন সুনক। সেখানে তাঁর মুখেও শোনা জয় শ্রীরাম ধ্বনি।
তিনি বলেন, আমার কাছে ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ধর্মই আমাকে পরিচালিত করে। প্রধানমন্ত্রী হওয়া আমার কাছে অতি সম্মানের। কিন্তু এটা কোনও সহজ কাজ নয়। এখানে বসে যে কাউকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, ধর্ম আমাকে প্রতি মুহূর্তে উদ্দীপনা জোগায়। আমার অন্তরের শক্তি। রামচন্দ্র সবসময় আমাকে পথ দেখান। তাঁরা জীবনের যে কোনও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে শেখান। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণার জোগান।
আরও পড়ুন: ৫ রাজ্যের ভোটপ্রার্থী ঠিক করতে ৩৫০ বিধায়কের অন্তর্তদন্ত কমিটি বিজেপির
সুনকের কথায়, আমি যখন চ্যান্সেলর ছিলাম, দেওয়ালির দিন ১১ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে প্রদীপ জ্বালানোর সময় রোমাঞ্চ অনুভব করতাম। আমি হিন্দু বলে নিজেকে গর্বিত বোধ করি এবং ব্রিটিশ বলেও গর্বে বুক ভরে ওঠে। রামকথার অনুষ্ঠানে ছেলেবেলার স্মৃতি রোমন্থন করেন সুনক। বলেন, ছোটবেলায় আমরা মন্দিরে যেতাম। সেখানে আমার পরিবার যজ্ঞ, পুজো ও আরতি করতেন। এরপর আমরা সব ভাইবোন মিলে প্রসাদ খেতাম।
শুধু রামায়ণ পাঠ নয়, তিনি ভাগবত গীতা এবং হনুমান চালিশাও শোনেন। রামকথা শোনানোর জন্য মুরারি বাপুকে কৃতজ্ঞতা জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
সুনক এদিন আরও জানান, তাঁর দফতরের টেবিলে একটি সোনার সিদ্ধিদাতা গণেশের ছোট মূর্তি রয়েছে। ওই মূর্তি সর্বদা আমাকে বলে, সকলের কথা শোনো এবং কাজ করার আগে ভেবে নাও। প্রসঙ্গত, গতবছর জন্মাষ্টমীর দিন স্ত্রী অক্ষতাকে নিয়ে সুনক কৃষ্ণমন্দিরে গিয়েছিলেন।