বসিরহাট: জয়ী আইএসএফ প্রার্থীর স্বামীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসকদলের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনা বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের পিফা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৯ নম্বর বুথের কঠুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। গতকাল, বুধবার রাত তিনটে নাগাদ একদল দুষ্কৃতী রাতের অন্ধকারে জয়ী আইএসএফের প্রার্থী আরজিনা বিবির বাড়িতে ঢুকে পড়ে। জয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর স্বামী জামাত আলি গাজিকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
জয়ী প্রার্থীর অভিযোগ, “ওই বুথে আইএসএফ প্রার্থী জিতেছে। যার কারণে পরিকল্পনা করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে মারার চেষ্টা করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থা আরজিনা বিবির স্বামীকে বসিরহাটে স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূলের দাবি, “দলীয় কোন্দলের জেরেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। এরসঙ্গে তৃণমূল কোনও রকমের যোগ নেই। এই পঞ্চায়েতের ২৬ টা আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৭টা আসন জিতেছে। কেনই বা আমরা গন্ডগোল করব?”
আরও পড়ুন: Panchayat Election 2023 | মোট ২৬৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে
প্রসঙ্গত, ভোট গণনার (Counting) রাতে মুড়ি মুড়কির মতো বোমাবাজিতে আইএসএফ (ISF) তৃণমূলের (TMC) সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড় (Bhangar)। রাতভর এলাকায় চলেছে বোমাবাজি, অস্ত্র হাতে দাপাদাপি। গণনার রাতেই সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার এই ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddique) সিবিআই (CBI) তদন্তের (Investigation) দাবি জানিয়েছেন।
নওশাদ বলেন, আইএসএফকে শাসক ভয় পেয়েছে। তাই তাদের উপর মিথ্যা মামলা সহ অত্যাচার নামিয়ে এনেছে। তাদের প্রার্থী জয়লাভ করলেও তাকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয় কেন? কেন আরাবুল বেড়িয়ে যাওয়ার পর ও রাতে আবার তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ফিরে এসে কীভাবে বুথে ঢোকে ও আমাদের প্রার্থী সহ কর্মীদের মারধোর করে। দ্বিতীয়বার কেন আরাবুলকে অনুমোদন করা হলো? কেন সাড়ে তিনটে পর্যন্ত গণনা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ছিল না বা কেন জেনারেটর চালানো হলো না? ৩ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেলেও আরও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হবে।