নয়াদিল্লি: ইন্ডিয়া জোটকে দুর্নীতিগ্রস্তদের দোস্তি বলে কটাক্ষ করা বিজেপিরই সম্পদের পরিমাণ সবথেকে বেশি। ২০২১-২২ অর্থ বছরে দলের ঘোষিত সম্পত্তির হিসেবে দেখা যাচ্ছে একা বিজেপিরই সম্পদের পরিমাণ ৬,০৪৬.৮১ কোটি। ওই আর্থিক বছরে বিপুল পরিমাণে সম্পত্তি বৃদ্ধি ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০২০-২১ সালে যেখানে তৃণমূলের সম্পদ ছিল ১৮২.০০১ কোটির, সেখানে ২০২১-২২ সালে সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৮.১০ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ১৫১.৭০ শতাংশ।
৮টি জাতীয় দলের মোট ৮,৮২৯.১৫ কোটির সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ওই আর্থিক বছরে। দি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের (ADR) একটি রিপোর্ট বলছে, তার আগের আর্থিক বছরে ৮ দলের সম্পদ ছিল ৭,২৯৭.৬১ কোটি টাকার। উল্লেখ্য, একবছরে বিজেপির সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে ২১.১৭ শতাংশ। কংগ্রেসের ২০২০-২১ সালে ঘোষিত সম্পত্তি ছিল ৬৯১.১১ কোটি টাকার। ২০২১-২২ আর্থিক বছরে ১৬.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তা হয়েছে ৮০৫.৬৮ কোটি।
আরও পড়ুন: ইডির নোটিস নিয়ে মুখ খুললেন নুসরত জাহান
জাতীয় দলগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশে প্রায় জমি হারানো মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির একমাত্র বার্ষিক রোজগার কমেছে। শারদ পাওয়ারের এনসিপিরও সম্পত্তি বেশ বেড়েছে। ৩০.৯৩ কোটি থেকে বেড়ে ৭৪.৫৪ কোটিতে পৌঁছেছে তারা। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া ১৪.০৫ কোটি থেকে সম্পত্তি বাড়িয়ে ১৫.৭২ কোটি টাকা করেছে। একদা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বর্তমানে কেরল শাসন করা সিপিএমের সম্পত্তি ৬৫৪.৭৯ কোটি থেকে বেড়ে ৭৩৫.৭৭ কোটি টাকার হয়েছে।
একইসঙ্গে ৮ জাতীয় দলের ঋণের পরিমাণও রিপোর্টে উল্লেখ করেছে এডিআর। ২০২০-২১ সালে সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১০৩.৫৫ কোটি টাকার। এর মধ্যে ঋণের ভার সবথেকে বেশি কংগ্রেসের। কংগ্রেসের ৭১.৫৮ কোটি, সিপিএমের ১৬.১০৯ কোটি। পরের বছর কংগ্রেসের ঋণ কমে ৪১.৯৫ কোটি হয়েছে। সিপিএমের ১২.২১ কোটি। বিজেপির মাত্র ৫.১৭ কোটি।
সবশেষে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিএআইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনও জাতীয় দলই ঋণদানকারী আর্থিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক অথবা এজেন্সির নাম ঘোষণা করেনি। নির্দেশিকায় রয়েছে, ঋণদানকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তির শর্তও জানাতে হয়। অর্থাৎ, কতদিনের জন্য ঋণ, কত সুদ, মাসিক কিস্তির পরিমাণ এসব জানাতে হয়।