লাহোর: সাধারণ নির্বাচনের জন্য পাকিস্তানের (Pakistan) সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে আগেই। এবার নিযম মাফিক পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের কাজও চূড়ান্ত হল। পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন আনওয়ারুল হক কাকার (Anwaar-ul-Haq Kakar) । আনওয়ারুল হক পাকিস্তানের সেনেটের সদস্য ২০১৮ সাল থেকে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Prime Minister Shehbaz Sharif) ও বিরোধী দলনেতা রাজা রিয়াজ (Raja Riaz) যৌথভাবে তাঁকে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে সহমতে পৌঁছয়। বালোচিস্তান আওয়ামি পার্টি সেনেটর আনওয়ারুল। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে শনিবার। রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি তাঁর নামে সিলমোহর দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি খুব বেশি পরিচিত নন।
পাকিস্তানের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা রাজা রিয়াজ বলেন, আমরা ঠিক করেছিলাম যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন ছোট রাজ্য থেকে হবেন। যাতে সেখানকার সমস্যা তুলে ধরা যায়। ৯ আগস্ট সংসদ মুলতুবি হয়ে যায়। সাধারণ নির্বাচনের মঞ্চ সেখান থেকেই তৈরি হয়ে যায়। যেখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অংশ নিতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ মুলতুবি হয়ে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। এই বছরে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে তা হবে জনগণনার পুনর্বিন্যাসের পরেই। এই সময় অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতা থাকবে। কারণ হিসেব মতো এবার নির্বাচন পুনর্বিন্যাসের কারণে আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: তীব্র সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী, মোদি বিদ্ধ মমতা বাণে
উল্লেখ্য, তোষাখানা মামলায় (Toshakhana Case) ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)। এই মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে ইমরানের। সেই সঙ্গে ১ লক্ষ টাকা জমিমানা ধার্য হয়েছ। তোষাখানা মামলায় শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছিল ইমরান খানের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান সরকার যে উপহার পেয়েছে, সেগুলি ইমরান খান নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। যা ছিল সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও দেশের সম্মানহানী হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় ইমরানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের এক ট্রায়াল কোর্ট। দুর্নীতির অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ইমরানকে। সেই সঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। আগামী পাঁচ বছর কোনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না ইমরান। তবে পাকিস্তানের নিম্ন আদালতের বিচারক হুমায়ূন দিলাওয়ারের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তেহরিক-ই-ইনসাফ। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী (Imran Khan Found Guilty) এবার উচ্চ আদালতে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।