মুম্বই: ভাগাড়ের মাংসের ঘটনার পর রেস্তরাঁর খাবারের প্রতি নাক সিঁটকে উঠত বঙ্গতনয়দের। ধীরে ধীরে সেই গা গুলানো ভাব কেটে যেতেই খাবারের দোকানগুলিতে আবার রোশনাই ফিরেছে। এখন ফের উইকএন্ড এলেই বাইরে খাওয়ার প্রবণতা ফিরেছে। কিন্তু, মুম্বইয়ের রেস্তরাঁয় যা ঘটল, তা শুনলে আগামী শনি-রবিবার চাইনিজ বা মোঘলাই খানা খেতে যাওয়ার আগে চোদ্দবার ভাববেন, একথা হলফ করে বলা যায়। মাংসের বাটিতে মিলল সিদ্ধিদাতা গণেশের বাহনের শবদেহ।
রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের বান্দ্রা এলাকার একটি পঞ্জাবি রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন অনুরাগ সিং এবং তাঁর বন্ধু আমিন। উপলক্ষ পবিত্র একটি ছুটির দিন পালন। ভারতীয় খাদ্যরসিক মহলে পঞ্জাবি খানা বেশ জনপ্রিয়। গরমাগরম চিকেন কারি দিয়ে স্যালাড সহযোগে রুটি মুখে ফেলতেই আবিষ্কার করলেন তাঁর মুখগহ্বরে রগরগে কারিমাখা যে মাংসপিণ্ডটি ঘোরাফেরা করছে, সেটি একটি ইঁদুর-শাবকের। এই ঘটনায় পলাতক রেস্তরাঁর ম্যানেজার এবং রাঁধুনিকে বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
আরও পড়ুন: আদালতের রায়ে মহিলা সম্পর্কে কোন ভাষা ব্যবহার উচিত নয়, পুস্তিকা সুপ্রিম কোর্টের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা একটি মাটন এবং চিকেন কারির অর্ডার দিয়েছিলেন। খাবার আসার পরেই অনুরাগ চিকেনের গ্রেভি দিয়ে খেতে শুরু করেন। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। কিন্তু ঠিক তারপরেই যখন মাংসে কামড় বসান, তখনই বুঝতে পারেন এটা চিকেন নয়। মুখ থেকে বের করে ভালোভাবে দেখতেই টের পান এটি একটি মৃত ইঁদুর।
যথারীতি তাঁরা মারমুখী হয়ে ম্যানেজারের উপর চড়াও হন। ম্যানেজার আবোলতাবোল সাফাই দিতে থাকেন। এরপর তাঁরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, খাওয়ার পরেই অনুরাগ অসুস্থ বোধ করেন এবং ডাক্তারের কাছে যান। পুলিশ রাঁধুনি, ম্যানেজার এবং চিকেন সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে লুধিয়ানার একটি বিখ্যাত পঞ্জাবি রেস্তরাঁর খাবারেও মরা ইঁদুর মিলেছিল। টুইটারে পোস্ট করা ওই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সে সময়।