কুইতো (ইকুয়াডর): কফিনে জীবন্ত মানুষ! ঠিক তাই। মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পর কফিনের ঢাকনায় পড়ল টোকা। বাড়ির লোকেরা তখন অন্ত্যেষ্টির জন্য প্রথামাফিক আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। হঠাৎই বাড়ির এক আত্মীয় খেয়াল করেন আওয়াজটি। কফিনের ভিতর থেকেই তো আসছে ঠকঠক করে টোকা মারার শব্দ। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ার জোগাড় আত্মীয়-পরিজনদের। যাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন প্রায় শেষ হতে চলল, তিনি তো দিব্য বেঁচে আছেন। তড়িৎগতিতে বাড়ির লোক তাঁকে নিয়ে ফের চলে আসেন হাসপাতালে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ডাক্তারি মতে মৃতের ‘পুনরুজ্জীবন’ লাভের সত্য ঘটনাটি ঘটেছে লাতিন আমেরকার উপকূলবর্তী দেশ ইকুয়াডরে।
সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ৭৬ বছর বয়সি ওই মহিলার নাম বেলা ইয়োলান্দা কাস্ত্রো। স্থানীয় একটি হাসপাতাল তাঁকে মৃত বলে জানিয়ে দেয়। আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। কিন্তু, ‘মৃত্যু’র পর পারলৌকিক ক্রিয়ার সময় হঠাৎই সংজ্ঞা ফেরে বৃদ্ধার। তাঁর ছেলে গিলবার্তো বারবেরা সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে লিখেছেন, কফিনে টোকা মারার শব্দ শুনে আমি ঢাকনাটা খুলি। দেখি মায়ের হার্ট চলছে। বাঁ হাত দিয়ে উনি কফিনে ঠুকছিলেন। আমরা ইমার্জেন্সি নম্বরে ফোন করি। ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় দেশের সরকার একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রক।
গত শুক্রবার মহিলাকে হার্ট অ্যাটাকের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসায় তিনি সাড়া না দেওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মঙ্গলবার মৃত ঘোষণা করেন। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তাঁর গায়ে হাসপাতালের ট্যাগ লাগানো রয়েছে। বৃদ্ধার ছেলে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বেলাকে বাবাহোয়ো শহরের মার্টিন ইকাজা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ওই বৃদ্ধা এখন কেমন আছেন, সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি মন্ত্রক।