কলকাতা: মনোনয়ন থেকে স্ক্রুটিনি, রাজ্যে পঞ্চায়েতে ভোট (Panchayat Election 2023) পর্বের হিংসায় নয় দিনে ৬ জনের মৃত্যু। শনিবার মালদহে কালিয়াচকে (Kaliachak Malda) খুন তৃণমূল প্রার্থী (Trinamool Candidate) মোস্তাফা শেখ। রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া পুলিশ রিপোর্টে নেই কোনও মৃত্যুর উল্লেখ। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আশান্তির ছবি দেখে সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে রাজ্যের সমস্ত জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা বলেন, সুপ্রিম কোর্টে লিভ পিটিশন ফাইল করা হয়েছে, মামলা হলে দেখবেন।
রাজ্যের সমস্ত জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উল্লেখ যোগ্যভাবে, এর আগেই বাহিনী চেয়ে বিহার, তামিলনাডু, ঝাড়খণ্ড সহ পাঁচ রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল রাজ্য। জানা গিয়েছে, এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সাড়া দিয়েছে তিন রাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড এবং তামিলনাডু। পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যকে বাহিনী দিতে প্রস্তুত হয়েছে রাজ্যগুলি। রাজ্যের তরফে মূলত ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার থেকে বেশি সংখ্যক বাহিনী চাওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যদিও কত সংখ্যক বাহিনী আসবে এই তিন রাজ্য থেকে তা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নয়। ঝাড়খণ্ড এবং ওডিশা থেকে বেশি সংখ্যক বাহিনী এলে তাদের আসতে সুবিধা হবে এবং এক্ষেত্রে রাজ্যের খরচও কিছুটা কমবে।
আরও পড়ুন: Panchayat Election 2023 | পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা বরদাস্ত নয়, বার্তা রাজ্যপালের
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবি করেছিল বিরোধীরা। একাধিক জায়গায় বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে৷ বিরোধীদের অভিযোগ পুলিশ রাজ্য সরকারের দলদাসে পরিণত হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপর্বেই রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস ও রক্তক্ষয় দেখে অসন্তুষ্ট রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়েছিল ভাঙড়৷ তৃণমূল- আইএসএফ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন জন৷ শুক্রবার সকালে ভাঙড়ের অশান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল। অশান্ত সব জায়গা ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল। এর পরেই কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যপাল৷। তার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আজ নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে (State Election Commissioner Rajiv Sinha) ডেকে পাঠান রাজ্যপাল (C. V. Ananda Bose Governor of West Bengal)৷ এমন কি সুকান্ত মজুমদার অশান্তির অভিযোগ জানাতে এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। শনিবারই ক্যানিং এ এলাকা পরিদর্শনেও যান রাজ্যপাল।