গত কয়েক বছরে গোটা বিশ্বে আধুনিক দাসত্ব ব্যবস্থা বা ‘সভ্যযুগীয় দাসত্ব’ বেড়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতিদিন বিশ্বের বহু শিশু, নারী, পুরুষ, প্রবীণ এই সভ্যযুগীয় দাসপ্রথার বলি হচ্ছেন। কখনও গোচরে, কখনও অগোচরে। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, ভারতের প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ আধুনিক দাসব্যবস্থার শিকার। পৃথিবীতে যেখানে সংখ্যাটা আনুমানিক ৫ কোটি। ওয়াক ফ্রি নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স বা বৈশ্বিক দাসত্ব মাপকাঠি প্রকাশ করে সম্প্রতি। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে আনুমানিক ৫ কোটি মানুষ আধুনিক দাসত্বের পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে বাধ্য হন। যার মধ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষই বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের নাগরিক।
সমীক্ষায় প্রকাশ, ২০২১ সালের পাঁচ বছর আগে বিশ্বে এই সংখ্যাটা আরও এক কোটি কম ছিল। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষ এই আধুনিক দাসখতের আওতায় এসেছেন। অন্যান্য অসংখ্য কারণ ছাড়াও মূলত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান জটিলতর সমস্যা, পরিবেশের উপর দূষণজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং কোভিড ১৯-এর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। সভ্যসমাজের আধুনিক দাসত্বের নেপথ্যে রয়েছে, দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে শ্রমিক হতে বাধ্য করা, ঋণখেলাপিকে ক্রীতদাসে পরিণত করা, জোর করে বিয়ে, সাধারণ দাসত্ব এবং দাসত্বের অনুরূপ কাজকারবার, সর্বোপরি শিশু ও নারী পাচার।
আরও পড়ুন: Panchayat Election 2023 | বিজেপির প্রার্থীর হয়ে বগটুইয়ে মনোনয়ন জমা স্বজনহারা পরিবারের সদস্যর
সমীক্ষায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আধুনিক যুগীয় দাসত্ব চোখে দেখা যায় না। খালি চোখে বোঝাও যায় না। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও সমাজের গভীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু খণ্ডাংশে নয়, গোটা পৃথিবীতেই সূক্ষ্মভাবে গোপনে আমাদের দাসত্বে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিদিন মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে, বাধ্য করা হচ্ছে অথবা জোর করে শোষিত হওয়ার পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে তার নিষ্কৃতি বা পরিত্রাণের কোনও উপায় নেই।
সমীক্ষা বলছে, প্রতিদিন আমরা যেসব সামগ্রী কিনি কিংবা যেসব পরিষেবা ব্যবহার করি সেগুলি আমাদের ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয় অথবা আমাদের ব্যবহারের বুদ্ধি অর্থাৎ প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমরা টেরই পাই না, এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গোপন মানব শ্রমের মূল্য। সমীক্ষা বলছে, সভ্যযুগীয় দাসত্বে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ মানুষকে জোর করে শ্রমিকের কাজ করানো হয়। ২ কোটি ২০ লক্ষ বিয়ে দেওয়া হয় পাত্র বা পাত্রীর অমতে। অন্যভাবে বলা যায়, প্রতি দেড়শো জনের মধ্যে একজনের বিয়ে দেওয়া হয় জোর করে।
আধুনিক দাসত্বের শিকার সবচেয়ে বেশি উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে প্রতি হাজারে ১০৪.৬ জন এর শিকার। এছাড়াও সৌদি আরব, তুরস্ক, আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত রয়েছে শীর্ষ ১০টি স্থানে। শুধু এই দেশগুলিই নয়, জি ২০ ভুক্ত দেশ যেমন ভারত ছাড়াও চীনে ৫০ লক্ষ এবং রাশিয়ায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ আধুনিক দাসত্বের যূপকাষ্ঠের বলি।