চেলসি–১ ম্যাঞ্চেস্টার সিটি-০
(কাই হাভার্টজ)
গত জানুয়ারি মাসে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডকে সরিয়ে যখন টমাস টুচেলকে চেলসির কোচ করেছিলেন চেলসির মালিক রোমান আব্রাহোমাবিচ, তখন তিনিও কি ভেবেছিলেন মরসুমের শেষে তাঁর টিমই ইউরোপের সেরা হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতবে? ভাবেননি। কারণ ভাবা সম্ভব ছিল না। কারণ তখন ই পি এল-এ চেলসির স্থান ছিল নয় নম্বরে। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব ছিল না। চেলসি তা হয়নি। সম্ভব ছিল চার দলের মধ্যে থেকে পরের বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করা। টুচেলের টিম তা পেরেছে। কাগজে কলমে সম্ভব ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। কারণ তখনও নক আউট শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত চেলসি সেটা করে দেখাল। শনিবার রাতে পোর্তোর দ্য ড্রাগন স্টেডিয়ামে নিজেদের হাজার ছয়েক সমর্থকের সামনে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে জার্মানির বাইশ ছুঁই ছুঁই কার্ল হাভার্টজের চমৎকার গোলে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে হারিয়ে চেলসি ইউরোপ সেরা হল। এবার নিয়ে দ্বিতীয় বার। প্রথম বার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১২ সালে।
এই মরসুমে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে চেলসির এটা জয়ের হ্যাটট্রিক। কদিন আগেই তারা পেপ গুয়েরদিওলার দলকে এফ এ কাপের সেমিফাইনালে হারিয়েছে। জিতেছে ই পি এল-এর অ্যাওয়ে ম্যাচও। কেকের উপর চেরিটা বাকি ছিল। সেটাও হয়ে গেল শনিবার রাতে। গোল করে ম্যাচের নায়ক অবশ্যই জার্মান তরুণ, যাঁকে রেকর্ড অর্থে নিজেদের দলে নিয়ে এসেছে চেলসি। কিন্তু ম্যাচের সেরা ফরাসি মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি এই ফরাসি তিন বছর আগের তাদের দেশের বিশ্ব কাপ জয়ের আনসাং হিরো। পাঁচ বছর আগে লেস্টার সিটিকে ই পি এল চ্যাম্পিয়ন করে এসেছিলেন চেলসিতে। শনিবার তাঁর বুকে যেন দুটো ইঞ্জিন বসানো ছিল। কী করেননি কন্তে? তাঁর পজিশন ছিল সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। টিম যখন ডিফেন্স করছে তখন তিনি ডিফেন্ডারদের পাশে। আবার যখন চেলসি আক্রমণে যাচ্ছে তখন তুন ফরোয়ার্ডের পাশে সাপোর্টিং স্টাইকার হিসেবে তিনি উপস্থিত। এ রকম একটা প্লেয়ার টিমে থাকলে কোচের চিন্তা আর্দ্ধেক কমে যায়।
ঠিক এই জায়গাতেই বিরাট ভুল করে ফেলেছিলেন পেপ গুয়েরদিওলা। সাম্প্রতিক কালে ইউরোপের সব চেয়ে সফল কোচ পেপ কি একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন? না হলে মাঝ মাঠে কোনও ডিফেন্সিভ ব্লকার রাখলেন না কেন? কেন ফের্দান্দিনহো এবং রড্রি সাইড লাইনে বসে থাকবেন? এর জবাব সারা জীবন খুঁজবেন পেপ? কিন্তু উত্তর পাবেন না। ফলস নাইনের প্রবক্তা মাঝ মাঠে নামালেন সব বল প্লেয়ারদের। ইকের গ্রূন্ডোগানকে দেওয়া হল ব্লকিংয়ের দায়িত্বে। তাঁর পাশে বের্নাডো সিলভা এবং ফিল ফডেন। কিন্তু নিজেদের পিছিয়ে রাখা চেলসি যখন কাউন্টার আ্যাটাকে আসতে আরম্ভ করল, তখন খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ম্যান সিটি। তাদের কপাল ভালই বলতে হবে, যে ব্যবধানটা অন্তত সম্মানজনক হয়েছে। বেশি গোলে হারতে হয়নি।
ফলস নাইন বললেও পেপ অবশ্য নামিয়েছিলেন রহিম স্টার্লিংকে। কিন্তু তাঁকে খুব একটা জায়গা দেননি চেলসি ডিফেন্ডাররা। রুডিগার, থিয়াগো সিলভা এবং রিসে জেমসের ত্রিশূলের কাছে বারবারই ভোঁতা হয়ে যাচ্ছিল স্টার্লিংয়ের সব জারিজুরি। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো হয়ে যায় ষাট মিনিটে কেভিন দে ব্রূইনের নাকে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া। বেলজিয়ান তারকা বহু ম্যাচে ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তাঁর দলকে। কিন্তু বিপদ তো একা আসে না। পেপের ভুল দল গঠনের সঙ্গে দে ব্রূইনের চোট ম্যান সিটিকে মাটি ধরাল। উল্টো দিকে ৩৬ মিনিটে থিয়েগো সিলভা চোট পেয়ে বসে গেলেও কোনও বিপর্যয় হয়নি চেলসির।
চেলসির গোলটা ৩৮ মিনিটে। গোলের মুভমেন্ট শুরু হয়েছিল গোলকিপার এডওয়ার্ড মেন্ডির পা থেকে।