নিউজিল্যান্ড দলে এক বাঙালি, কিউয়িরা জিতলে খুশিই হবেন তিনি!

0
41

ওয়েব ডেস্ক : রবিবার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে (T20 World Cup Final 2026) মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড (India vs Newzeland)। গোটা দেশ যখন সূর্যকুমার যাদবদের সাফল্যের অপেক্ষায়, তখন সেই ম্যাচ নিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন বাংলার অতনু ঘোষ (Atanu Ghosh)। ভারত (India) জিতলে দেশের আনন্দ বাড়বে ঠিকই, কিন্তু তাতে কিছুটা হলেও মন খারাপ হবে তাঁর। কারণ তিনি এখন নিউজিল্যান্ড (Newzeland) দলের সদস্য।

জানা গিয়েছে, হুগলির মশাটে জন্ম অতনুর (Atanu Ghosh)। বর্তমানে তিনি কিউই দলের একমাত্র ম্যাসিয়োর হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপ থেকে নিউ জিল্যান্ড দলের সঙ্গে যুক্ত তিনি। যদিও তাঁর কাছে আলাদা করে নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকত্ব নেই। ভারতেই থাকেন, তবে যখনই কিউই দল ভারতে আসে, তখনই তাঁকে ডেকে নেওয়া হয় দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য।

মশাটের এক সাধারণ পরিবার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাজঘর—অতনুর (Atanu Ghosh) এই যাত্রা যেন সিনেমার গল্প। পড়াশোনার জন্য কলকাতায় এসে কোলে মার্কেটের একটি মেসে থাকতেন তিনি। সেই সময়েই ক্রিকেটার ঋদ্ধিমান সাহা ও অশোক দিন্ডার সঙ্গে পরিচয় হয়। অন্যদিকে, অতনুর মা রান্নার কাজ করতেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর বাড়িতে। সেই সূত্রেই ক্রিকেট জগতের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। অতনু নিজে কখনও ক্রিকেট খেলেননি। কিন্তু সাহা ও দিন্ডার পরামর্শেই ফিজিয়ো বা ম্যাসিয়োর হওয়ার কথা ভাবেন। ফিজিয়ো কোর্স করার জন্য বিজ্ঞান বিভাগে ডিগ্রি লাগত, যা তাঁর ছিল না। পরে ম্যাসিয়োরের কোর্স করে পেশাদার জীবনের শুরু করেন তিনি।

আরও খবর : বৃষ্টিতে ফাইনাল ভেস্তে গেলে জিতবে কোন দল?

প্রথমে কালীঘাট ক্লাবে কাজের সুযোগ পান। এরপর এক সময় কর্নাটক দল কলকাতায় খেলতে এসে একজন ম্যাসিয়োর খুঁজছিল। সেই সময় রবিন উথাপ্পার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় তাঁর। তার পরেই কর্নাটক দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন অতনু (Atanu Ghosh)। তাঁর কাজ এতটাই পছন্দ হয় যে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি কর্নাটক দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। সেই সময় লোকেশ রাহুল, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ বা দেবদত্ত পাড়িক্কলের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

এর পরেই পর বিসিসিআইয়ের নজরে আসেন অতনু (Atanu Ghosh)। ভারত ‘এ’ দল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দল, এরপর ২০২০ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাসিয়োর হিসেবে যোগ দেন তিনি। কেকেআরে কাজ করার সময় টিম সাউদি ও লকি ফার্গুসনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের মাধ্যমেই ২০২৩ বিশ্বকাপের সময় নিউ জিল্যান্ড দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান অতনু। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরিস্থিতি তাঁর জন্য একটু আলাদা। ভারত জিতলে দেশের জন্য আনন্দ হবে, কিন্তু নিজের দলের হার দেখাও সহজ হবে না। অতনুর কথায়, নিজের দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে একটু খারাপ তো লাগবেই। কিন্তু এই দলটাই আমাকে পরিচিতি দিয়েছে, তাই তাদের সাফল্যেও খুশি হব।

দেখুন অন্য খবর :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here