ওয়েবডেস্ক- বছর শেষের আগেই গতকাল রাতেই বঙ্গে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এসআইআর আবহেই বাংলায় শাহের আগমন। লক্ষ্য ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন (2026 Assemble Election) । একদিকে এসআইআর কাঁটা অন্যদিনে মতুয়াদের (Matua) নাগরিকত্ব (citizenship) হারানোর ভয়, এই দুয়ে মিলিয়ে এই আবহে বঙ্গে স্বরাষ্ট্রমনন্ত্রীর আগমন তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে মতুয়াদের আশ্বস্থ করলেন অমিত শাহ। এদিন তিনি বলেন, নাগরিকত্বের আবেদন করা নিয়ে মতুয়াদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
যে শরণার্থীরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তারা এই ভারতেই নাগরিক। এটা বিজেপির প্রতিশ্রুতি। তাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও না। সাংবাদিক বৈঠকে শাহের সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির অন্যতম মুখ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও।
এসআইআর রাজ্যে লাগু হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগেছে মতুয়ারা। তাদের ভয়, তারা নাগরিকত্ব হারাতে পারে। এসআইআর ভয়ে সাম্প্রতিক সময় সঙ্ঘাধিপতি মমতা বালা ঠাকুরের নেতৃত্বে অনশনে বসেছিলেন মতুয়ারা। সেখানে যোগ দেন মমতা বালাও। মমতা বালার তীব্র অভিযোগ, এই এসআইআর করেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হতে পারে, মতুয়াদের। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির যোগসাজশেই এসআইআর করে মতুয়াদের দেশ থেকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র। এর মধ্যে আগুনে ঘি পরে অপর সঙ্ঘাধিপতি, বিজেপি নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য থেকে।
আরও পড়ুন- শুধু আটকাবো না, অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে ভারত থেকে বার করবো: শাহ
সম্প্রতি শান্তনু ঠাকুর বনগাঁর গাড়াপোতা এলাকায় বিজেপির একটি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এসআইআর হওয়ার ফলে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী মুসলিম বাদ চলে যাবে। সেখানে যদি আমাদের সমাজের এক লক্ষ ভোটার বাদ যায় সেখানে সমস্যা কোথায়, এই কথা বলায় মতুয়া সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে নাট মন্দিরে মমতা বালা ও শান্তনু ঠাকুরের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। আগামী ৫ জানুয়ারি গোটা রাজ্যে পথ অবরোধের ডাকা দিয়েছে মমতা বালা অনুগামী সদস্যরা।