মুর্শিদাবাদ: মুম্বইয়ে (Mumbai) লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রানিতলা (Ranitala) থানার অন্তর্গত হাজীগঞ্জের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক রেন্টু শেখকে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটলেও, দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টা পর সোমবার তাঁর নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই শোক মুহূর্তে রূপ নেয় তীব্র ক্ষোভে। উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা হাজীগঞ্জ এলাকা।
পরিবারের কান্নার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। এই মৃত্যু শুধু একটি খুনের ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের কর্মসংস্থানহীনতার প্রতীক, এই অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের প্রশ্ন, ০“আর কত পরিযায়ী শ্রমিকের রক্ত ঝরলে তবে টনক নড়বে?”
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় তুষারপাত! পারদ শূন্যের নিচে না নামলেও কেন জমছে বরফ?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজ্যে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে যুবকদের। সেখানে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে একের পর এক প্রাণ ঝরছে। বিক্ষোভের সময় স্লোগান ওঠে, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাই না, কৃষক বন্ধু চাই না—চাই কলকারখানা, চাই কাজ!”
রেন্টু শেখ পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার কার্যত পথে বসার মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কোনও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। শুধু ভোটের আগে নানা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আজ হাজীগঞ্জের মানুষের প্রশ্ন একটাই, ভোটের আগে উপহার, আর ভোটের পরে লাশ—এটাই কি উন্নয়ন? রেন্টু শেখের মৃত্যু সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলল।