টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T-20 World Cup) অভিযান শেষ হল ইতালির (Italy)। বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্স-এ (Eden Garden) ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল-এর কাছে ৪২ রানে হেরে যায় আজুরিরা। এই ম্যাচের ফল অবশ্য টুর্নামেন্টের অঙ্কে কোনও প্রভাব ফেলেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগেই সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছিল, আর ইতালির বিদায় অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে তোলে ১৬৫ রান। জবাবে ইতালি গুটিয়ে যায় ১২৩ রানে। ক্যারিবিয়ান দলের হয়ে ৭৫ রান করে ম্যাচের সেরা হন শাই হোপ।
ইতালিতে ক্রিকেট এখনও জনপ্রিয় খেলা নয়। ফুটবলই সেখানে প্রধান। সেই কারণে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতালির অংশগ্রহণই অনেকের কাছে চমক ছিল। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে দেশে ফিরছে ইতালির দল।
তবে বিশ্বকাপ শেষ হলেও ইতালির ক্রিকেটারদের সামনে বড় প্রশ্ন—দেশে ফিরে কি মিলবে চাকরি?
ইতালির অধিকাংশ ক্রিকেটারই ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। জীবিকার জন্য তাঁরা যুক্ত নানা পেশায়। চাকরির ফাঁকে সময় বের করেই অনুশীলন ও ম্যাচ খেলে থাকেন। সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি জাতীয় দলের লেগ স্পিনার ক্রিশান কালুগামাগে।
নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচের সেরা হওয়া কালুগামাগে পেশায় ছিলেন একটি পিৎজা রেস্তোরাঁর কর্মী। কিন্তু চার মাসের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাঁর পদ খালি রাখা সম্ভব নয়—আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রেস্তোরাঁর মালিক। ৩৪ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে জাতীয় দলের ডাকে সাড়া দেন তিনি।
কালুগামাগে জানান, শীতকালে ইতালিতে অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় তাঁরা শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই পিৎজা প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অনুশীলনের জন্য আলাদা সময় বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।
শ্রীলঙ্কায় লেগ স্পিনার হিসেবে ক্রিকেট শুরু করা কালুগামাগে ইতালিতে এসে কখনও ফাস্ট বোলার হিসেবেও খেলেছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এক সাক্ষাৎকারে কালুগামাগে বলেন,
“বিশ্বকাপের পরে আশা রাখছি, আমি একটা চাকরি পাব।”
ইতালির ক্রিকেটারদের কাছে বিশ্বকাপ তাই শুধু মাঠের লড়াই নয়, জীবনের লড়াইও।
