কলকাতা: আবারও আদালতের তোপের মুখে পড়ল পুলিশ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাদা কৃষ্ণেন্দুকে পাঠানো পুলিশের নোটিস খারিজ করে আদালত কার্যত তুলোধনা করল তাদের। আদালতের নির্দেশ, তাদের অনুমতি ছাড়া কৃষ্ণেন্দুকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬০ ধারায় নোটিস পাঠানো যাবে না। এর জন্য এগরার এসডিপিওকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নিজের পকেট থেকে ওই পুলিশ অফিসারকে টাকা দিতে হবে। তিনি উর্দির মর্যাদা রক্ষা করেননি, কারও দাসের মতো আচরণ করেছেন। এটা মেরুদণ্ডহীন কিছু পুলিশের কাজ ছাড়া কিছু নয়।
মেচেদা-দীঘা বাইপাসে ২০১৭-১৮ সালে এলইডি লাইট লাগানো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে কৃষ্ণেন্দুর আর্থিক তছরুপের অভিযোগ করা হয় পুলিশের কাছে। গতকাল এসডিপিও সাক্ষী হিসেবে তাঁকে ডেকে পাঠায় নোটিস দিয়ে। তিনি আদালতে মামলা করেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, চার বছর পর কেন অভিযোগকারী জেগে উঠে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন, তা বুঝতে পারছি না। মামলাকারীকে হেনস্থা করার জন্যই পুলিশের এই পদক্ষেপ। ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্থা করার জন্য পুলিশ বাহিনী তৈরি করা হয়নি। অভিযোগ, কৃষ্ণেন্দুর কাছে নাকি ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দশ বছরের আয়করের ফাইল চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, সাক্ষীর আয়করের ফাইল দিয়ে পুলিশ কী করবে। ফৌজদারি বিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী কাউকে ডেকে পাঠানো হলে তাঁর আয়কর ফাইলের কী প্রয়োজন, তা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়।