কলকাতা: সল্টলেকের (Saltlake) সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি-ED)-র দফতরের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হল। সিজিও কমপ্লেক্সের দু’টি প্রবেশদ্বারে ছ’জন করে মোট ১২ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। আগে থেকেই প্রবেশদ্বারে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে এবার জওয়ানের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।
যে কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের অনুমান, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডির তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিজিও কমপ্লেক্সে মোট দু’টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশি চলাকালীন সাময়িক ভাবে ওই দু’টি গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি, তবে যাতে কোনও ‘অবাঞ্ছিত ভিড়’ ঢুকে না পড়ে, সে জন্য কড়া নজরদারি চালানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি ও সিবিআই, দু’টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই দফতর ছিল। সেই সময় গেটের সামনে সিআরপিএফ জওয়ানের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি ছিল। তবে গত বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ সিবিআই-এর দফতর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কিছুটা শিথিল হয়। তখন গেটের সামনে এক-দু’জন জওয়ানকেই দেখা যেত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের সেই নিরাপত্তা কড়া করা হল।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশি চলাকালীন আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও যান। মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেও ওই ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা।
দিনভর তল্লাশির শেষে সন্ধ্যায় ইডির আধিকারিকেরা দফতর ছাড়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ইডির বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে, যদিও আধিকারিকদের গাড়ি আটকানোর মতো কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পরেই সিজিও কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।