ওয়েবডেস্ক- এসআইআর (SIR) নিয়ে চাঞ্চল্যের মধ্যে আরও বড় চমক নির্বাচন কমিশনের (ELection Commission)। অবসর প্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে (Retired IAS officer Subrata Gupta) বাংলার (Bengal) ভোটার তালিকা সংশোধনের (Voter List Correction) বিশেষ রোল অবজার্ভার (Roll Observer) নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যসচিব হওয়ার কথা ছিল এই সুব্রত গুপ্তের। শুক্রবার সন্ধ্যায় কমিশনের এই ঘোষণায় রাজ্য রাজনীতিতে নয়া চমক।
প্রসঙ্গত, বাংলায় নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলে তোপ দেগেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ভোটার নাম বাদ দেওয়া হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে কমিশনকে নিরপেক্ষ হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এবার এসআইআর প্রক্রিয়ার নিয়ে দিল্লি মুখ্য নির্বাচন কমিনার জ্ঞানেশ কুমারের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধি দল।
১৯৯০ সালের ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গের ক্যাডারের আইএসএস অফিসার ছিলেন সুব্রত গুপ্ত। এই দক্ষ অফিসারই সিনিয়রিটির জন্য এক সময় মুখ্য সচিব পদের যোগ্য ছিলেন। ১৯৮৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার মলয় দে রাজ্যের মুখ্যসচিব হয়েছিলেন। তাঁর অবসরের পর মুখ্য সচিব হন ১৯৮৬ ব্যাচের আইএএস রাজীব সিনহা। রাজীবের পর মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ হন ১৯৮৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় অর্থ সচিব ছিলেন ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
আরও পড়ুন- BJP-র নিশানায় নির্বাচন কমিশন! SIR নিয়ে বড় মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যর
১৯৮৯ ব্যাচের দুই আইএএস অফিসার অনিল বর্মা ও অত্রি ভট্টাচার্যর মধ্যে কাউকে যে মুখ্য সচিব করা হবে না, তা নিয়ে চাপানউতোর তৈরি হয়। অত্রি ভট্টাচার্যকে সিনিয়রিটির ভেঙে স্বরাষ্ট্র সচিবের পদ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর ১৯৮৯ ব্যাচের আইএএস অফিসার বি পি গোপালিকাকে মুখ্যসচিব করা হয়। গোপালিকার পর ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত মুখ্য সচিব পদে স্বাভাবিক দাবিদার ছিলেন। কিন্তু তাঁকে মুখ্য সচিবের পদে না বসিয়ে ১৯৯১ ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ পন্থকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার কমিশন অবসর প্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকেই এইআইআর নজরদারির নির্দেশ দিলেন। যাতে কোনও যোগ্য নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, অথবা অযোগ্যরা ঢুকে না যায়, সেটাই সুনিশ্চিত করবেন সুব্রত গুপ্ত। প্রয়োজন মতো কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে তাঁকে। তিনি চাইলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত গ্রাউন্ড লেভেল ইনপুট ও অবজারভেশন পাঠাতে পারবেন।
দেখুন ভিডিও-