আকাশছোঁয়া পেট্রোল-ডিজেলের দামে, নাভিশ্বাস উঠছে সরকারি ও বেসরকারি বাস ও ট্রাক মালিকদের। পরিত্রাণের পথ খুঁজতে অবশেষে বিকল্প সিএনজি বা গ্যাস চালিত বাস চালানোর লক্ষ্যেই এগোতে চলেছে রাজ্য পরিবহণ নিগম। সোমবার রাজ্য পরিবহণ দফতরের ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের সঙ্গে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির একটি মউ সাক্ষরিত হয়। আগামী দিনে ধাপে ধাপে রাজ্য পরিবহণ নিগমের ডিজেল চালিত সমস্ত গাড়িকে গ্যাস ও বিদ্যুৎচালিত করে তোলা হবে। সেই লক্ষ্যেই বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি হল।
আরও পড়ুন:ওভারলোডিং সমস্যায় পদক্ষেপ ফিরহাদের
আগামী দিনে রাজ্যের পরিবহন নিগমের সমস্ত বাস ডিপোগুলিতে সিএনজি রিফিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজে নামতে চলেছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি। যেহেতু দ্রুত পাইপ লাইন বসানোর কাজ সম্ভব নয়, তাই ক্যাপসুল বা কন্টেনারের মাধ্যমে দুর্গাপুর থেকে সিএনজি নিয়ে এসে শহর ও শহরতলি বিভিন্ন প্রান্তে সাপ্লাই দেওয়া হবে। সিএনজি রিফিলিংয়ের জন্য আনা হচ্ছে অত্যাধুনিক মেশিন, এই মেশিন ১ ঘন্টায় ১৫ টি বাসে গ্যাস রিফিল করতে সক্ষম। বিকল্প এই গ্যাস চালিত ও ব্যাটারি চালিত বাস পরিবহন নিগমের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে চলে এলে, সাধারণ মানুষকে বাস ভাড়া বৃদ্ধির চাপের মধ্যে পড়তে হবে না বলেও এদিন জানালেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
আরো পড়ুন:ওভারলোডিং রুখতে কড়া বার্তা পরিবহন মন্ত্রীর
শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি পরিবহনের ক্ষেত্রেই নয়, বেসরকারি পরিবহনের ক্ষেত্রেও ডিজেল চালিত বাসগুলিকে গ্যাস চালিত বাসে পরিণত করার বিষয়টি নিয়ে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে দীর্ঘদিন লকডাউনে মানুষের আয় কমে যাওয়ার ফলে এখনি যদি বাস ভাড়া বৃদ্ধি পায় তবে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়বেন। সে কথা মাথায় রেখেই বিকল্প পথের সন্ধানে এগোনোর ভাবনা নিয়েছে রাজ্য পরিবহণ নিগম। গ্যাস ও বিদ্যুৎ চালিত বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের হয়রানিও অনেকটা কমবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে প্রায় ১৩০ টি ডিপোতে, গ্যাস রিফিল করার ব্যবস্থা করবে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি। এর জন্য ডিপো প্রতি খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। জানালেন বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সিইও সত্যব্রত বৈরাগী।