যত সময় যাচ্ছে তত বাড়ছে দূষণের মাত্রা। কেবল ডাঙা নয়, দূষণ থাবা বসিয়েছে সমুদ্রের গভীরেও। এর মধ্যে অন্যতম মাইক্রোপ্লাস্টিক। সমুদ্রের পেট ক্রমশ ভরে উঠছে ওই বিষাক্ত উপাদানে। যা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই বিজ্ঞানীদের। পরিবেশকে সুস্থ রাখতে তারা বিভিন্ন সব উপায় অবলম্বন করে চলেছেন। তার মধ্যেই একটি আশ্চর্যজনক আবিষ্কার হল রোবোটিক মাছ (Robot Fish)। সমুদ্রের খেয়াল রাখতে ইটিএইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি রোবোটিক মাছ (Robot Fish) তৈরি করেছেন।
রোবোটিক মাছটির নাম বেলে (Belle)। বেলে নামের এই মাছের দৈর্ঘ্য তিন ফুট। এটি সাধারণ মাছের মতো সমুদ্রে সাঁতার কাটতে পারে। কিন্তু সব মাছেদের থেকে এর দায়িত্ব অনেক বেশি। এই রোবোটিক মাছটি সমুদ্রের অতলে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আনতে পারবে। মাছটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, এটি সামুদ্রিক পরিবেশের যে কোনও ছোটখাটো বিষয়ে নজর রাখতে পারবে। এমনকি কেউ যদি সমুদ্রের ক্ষতি করে, তাহলে তাকে ধরে ফেলবে এই বেলে নামক এই মাছ।
আরও পড়ুন:America | Second Language | আমেরিকান স্কুলে এবার ইংরেজির পর দ্বিতীয় ভাষা হিন্দি
এই মাছটির মুখের পাশে একটি ক্যামেরা রয়েছে, সেই ক্যামেরা দিয়ে নিমেষে ছবি উঠে যাবে, আর সেই ছবি ‘সেভড’ থাকবে তারই মধ্যে। মাঝে মাঝেই গবেষকরা সেই সেভ করা তথ্যের দিকে নজর দেবেন। এক কথায়, এই রোবোটিক মাছ আসল সামুদ্রিক মাছেদের দলে ঢুকে গোয়েন্দাগিরি করে। তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ভিডিয়ো রেকর্ডিং করতে পারে।
শিক্ষার্থী গবেষক লিওন গুগেনহেইম জানান, তিনি মাছটিকে এমন একটি আকৃতি দিয়েছেন, যাতে এটি একটি আসল মাছের মতো দেখতে লাগে। এমনকি এটি অন্যান্য জীবন্ত মাছের মতোই আচরণ করে। এটির রং সাদা। এর সঙ্গে ফিল্টার এবং পাম্প যুক্ত করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক ডিএনএ ক্যাপচার করতে সাহায্য করবে। সামুদ্রিক ডিএনএ বলতে সহজ কথায় সামগ্রিকভাবে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ ওই ক্যামেরা আর ফিল্টার সমুদ্রের অনন্ত জীবজগতের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করে চলে।