কলকাতা: পৃথিবীর জন্মলগ্নে কোনও প্রাণের চিহ্ন ছিল না। বহু কোটি বছর পর ধীরে ধীরে গাছপালা , জীবজন্তু ও মানুষের উদ্ভব ঘটেছে। আবার বিবর্তনের নিয়মে বহু প্রাণও হারিয়েছে। সম্প্রতি কোটি কোটি বছর আগেই সেই বিলুপ্ত প্রাণের খোঁজ মিলেছে। নিউজিল্যান্ডে (New Zealand) ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone) পর ৮০ মিলিয়ন (৮ কোটি) বছরের পুরনো একটি বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া গিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েলের পর এই জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীরা সেই বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের মাউঙ্গাতানিওয়া নেটিভ ফরেস্টে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘূর্ণিঝড়টি চলে। এই কারণে পাহাড়ি নৌপথ সম্পূর্ণ জলে ভরে যায়, ফলে আশপাশেরও পাথর উপড়ে পড়ে। তারপরে চলতি বছরের মার্চ মাসে সেই একই জায়গায় আরও একটি জীবাশ্মের সন্ধান পান জীবাশ্মবিদরা। তাদের মতে, দুটি নতুন আবিষ্কৃত জীবাশ্ম ইলাসমোসরাসের প্রজাতি হতে পারে। এই প্রাণীগুলি সামুদ্রিক সরীসৃপ, যা ৪৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা বলে জানিয়েছেন জীবাশ্মবিদরা। ইনস্টিটিউট অফ জিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সায়েন্স লিমিটেডের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলিতে জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। আর বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বর্তমানে সেসব নদীর থমথমে অবস্থা। নদীগুলি থেকে বেশিরভাগ পাথর উঠে এসেছে। তার মধ্য়েই একটি পাথরে ৮০ মিলিয়ন বছর পুরনো এই বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে।”
আরও পড়ুন:Travel Destinations | প্রথমবার দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন?
বিজ্ঞানীদের কথায়, পাথরের উপর এই প্রাণীদের একটি মেরুদণ্ড রয়েছে। জীবাশ্মবিদদের দলটি তারপরে আরও একটি জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছে, যা একটি মোসাসর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ডাইনোসরের সময়ে এই প্রাণীরা সমুদ্রের সেরা শিকারী ছিল। এর আগেও নিউজিল্যান্ডে মোসাসরের জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। ২০১৫ সালে মাঙ্গাহোঙ্গা স্রোতে একটি দাঁতের জীবাশ্ম এবং একটি আংশিক চোয়ালের হাড় আবিষ্কৃত হয়েছিল। সেই বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়েছেন জীবাশ্মবিদরা।
ইলাসমোসরাস কী? ইলাসমোসরাসের খুব লম্বা গলা ছিল। শরীরের অর্ধেকের বেশি তাদের গলা ছিল। লম্বা ঘাড় ৭০ টিরও বেশি কশেরুকা দিয়ে তৈরি, যার কারণে এটি নমনীয় ছিল। এ কারণে তারা সব দিক দিয়ে শিকার করতে পারত। এই প্রাণীটির দেহ সমুদ্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। এটিতে চারটি বড় ফ্লিপার ছিল, যার ফলে জলে দ্রুত সাঁতার কাটতে পারত। এদের গঠন বর্তমানের সামুদ্রিক কচ্ছপের মতোই অনেকটা।