ফ্লোরিডা: অসীম এই ব্রহ্মাণ্ড (Universe) সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি। যে অংশটা আমরা দেখতেই পাই না সেই ডার্ক ইউনিভার্স বা অন্ধকারাচ্ছন্ন ব্রহ্মাণ্ডের বিষয়ে তো কিছুই জানা নেই। ডার্ক ইউনিভার্সকে (Dark Universe) জানার উদ্দেশ্যে নতুন মিশন লঞ্চ করছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA)। মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে ইউস্লিড স্পেস টেলিস্কোপ (Euclid Space Telescope) যা ওই অন্ধকার জগতে নজর দেবে, আলোকপাত করবে মহাবিশ্বের গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে। শনিবার ফ্লোরিডার (Florida) কেপ ক্যানাভারাল থেকে স্পেস এক্স ফ্যালকন ৯ (SpaceX falcon 9) রকেটে চেপে পাঠানো হবে ইউস্লিডকে। স্পেস-টাইম জুড়ে মহাশূন্যের এক বিশাল ম্যাপ তৈরি করবে সে।
কোটি কোটি নক্ষত্রপুঞ্জের (Galaxy) দিকে নজর থাকবে ইউস্লিডের। তার দৃষ্টি ১০০০ কোটি আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। ব্রহ্মাণ্ড কীভাবে সম্প্রসারিত হল, কীভাবে তার এই আকার হল, সেই রহস্য উদঘাটন করা ইউস্লিডের কাজ। নতুন অবজারভেটরির মাধ্যমে অভিকর্ষের ভূমিকা, ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে জানার ব্যাপারে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন: Gravitational Waves in Universe | ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে ভেসে অভিকর্ষজ তরঙ্গ, সৃষ্টি হচ্ছে ‘ব্রহ্মসঙ্গীত’!
ডার্ক ইউনিভার্স আসলে কী?
ডার্ক ইউনিভার্স হল মহাবিশ্বের সেই রহস্যময় অংশ যা আমরা দেখতে পাই না। এর প্রধান উপাদান দুটি— ডার্ক ম্যাটার (Dark Matter) এবং ডার্ক এনার্জি (Dark Energy)। সমগ্র মহাবিশ্বের যত ম্যাটার আছে তার ৮৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার। একইভাবে মহাবিশ্বের সমগ্র এনার্জির মধ্যে ৭০ শতাংশ ডার্ক এনার্জি। প্রকৃতপক্ষে, ডার্ক ম্যাটারই গ্যালাক্সিদের ধরে রাখে, সে কারণেই তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় না। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মতে, ডার্ক ম্যাটার না থাকলে নক্ষত্রপুঞ্জ গঠিতই হত না। এদিকে ব্রহ্মাণ্ড সম্প্রসারিত হয়ে চলার কারণ ডার্ক এনার্জি। ইএসএ আরও জানিয়েছে, মহাবিশ্বের গঠন নিখুঁত পরিমাপ করে নিউট্রিনোর সমগ্র ভর জানবে ইউস্লিড, এবং তা থেকে কতটা ডার্ক ম্যাটার তৈরি হতে পারে তাও বিচার করবে।
নতুন টেলিস্কোপটি ইমেজারি, ভিসিবিল, স্পেকট্রোস্কপি এবং ফোটোমেট্রিক ডেটা প্রদান করবে যা খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। প্রায় ২ টন ওজনের ইউস্লিডে দেড় মিটার ব্যাসের একটি প্রাথমিক আয়না, একটি নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকটোমিটার এবং ফোটোমিটার। সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করতে ইউস্লিডের জন্য একটি সান-শেড বানানো হয়েছে। কারণ এর ভিজিবল ইনস্ট্রুমেন্ট কাজ করবে -১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বঙ্গ স্পেকটোমিটার ও ফোটোমিটার কাজ করবে -১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।