কাবুল: রাস্তা, বাজার বা জনবহুল স্থানে বিস্ফোরণ। আর ঘটনাস্থল মার্কিন দূতাবাসের অদূরে। কাবুলিওয়ালার দেশে এই ধরণের ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে এই ধরণের অনেক খবর এসেছে। অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার তেমনই ভয়াবহ জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে আফগানিস্তানের রাজধানী শহর কাবুলের মার্কিন দূতাবাসের অদূরে।
আরও পড়ুন- আফগানিস্তানের Presidential Palace-এর দখল নিল তালিবানেরা
অন্যান্য সময়ের থেকে ওই ঘটনা অনেক আলাদা। কারণ এখন এই মুহূর্তে সমগ্র আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন তালিবান। আফগানিস্তানের মাটি থেকে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করে নিতেই সক্রিয় হতে শুরু করে তালিবানেরা। অপ্তাহ খানেক সময়ের মধ্যে সমগ্র আফগানিস্তানের দখল নেয় তারা। রবিবার কাবুল চলে যায় তালিবানদের দখলে।
আরও পড়ুন- আফগানিস্তানে রক্তের বন্যা রুখতেই দেশ ছেড়েছি: প্রেসিডেন্ট ঘানি
তারপরেই আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাসের অদূরে একাধিক জোরাল বিস্ফোরণ ঘটে। যে স্থানে ওই দুই বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখান থেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস খুব বেশি দূরে নয়। মার্কিন দূতাবাস এবং প্রেসিডেনশিয়াল প্যালাসের মাঝামাঝি জায়গায় ঘটেছে ওই বিস্ফোরণ। এদিনই আফগানিস্তানের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস দখল করে তালিবানেরা।
আরও পড়ুন- সংসদে আলোচনা ছাড়াই বিল পাস কেন, প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির
অন্যদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ প্রতিকূল হতেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রসিডেন্ট মহম্মদ আশরাফ ঘানি। তারপরেই দেশ ছেড়ে পালাতেই সমন্বয় পরিষদ গঠিত হয়েছে আফগানিস্তানে৷ আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, হামিদ কারজাই এবং হেকমতিয়ার সমন্বয় পরিষদ গঠন করেছেন৷ নাগরিকদের সুরক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শান্তিপূর্ণ ভাবে সুনিশ্চিত করতে এই সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হয়েছে৷
আরও পড়ুন- স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক স্লোগান ঘিরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ
হামিদ কারজাই বলেন, দেশ থেকে মোহাম্মদ আশরাফ ঘানি এবং অন্যান্য আধিকারিকরা চলে যাওয়ার পর একটি সমন্বয় পরিষদ গঠিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ আবদুল্লাহ, হামিদ কারজাই এবং গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার ওই পরিষদের সদস্য। তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ বলেছেন, “তালিবান জঙ্গিদের কাবুল শহরে প্রবেশ করে এলাকার দখল নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে এখন নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।”
দেশ ছাড়ার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত আফগান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ আশরাফ ঘানি জানিয়েছেন নিজের বক্তব্য। তিনি বলছেন, “রক্তের বন্যা রুখতে আমাকে দেশ ছাড়তে হল।” ঘানির মতে, “আমি চরম প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমি দুর্গে লুকিয়ে থাকলে তালিবানেরা কাবুলে হামলা করত। অনেক সাধারণ মানুষকে মেরে ফেলত।” প্রেসিডেন্ট ঘানি দেশ ছেড়ে তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ইন্টেরিয়র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন- স্বাধীনতা দিবসের দিন জুতো পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিতর্কে জড়ালেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী