দিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে রাফাল দুর্নীতি মামলায় নয়া উদ্যোগ ফ্রান্সের। নতুন করে মামলা শুরু করে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। ফ্রান্সের অর্থিক অপরাধ দমন বিভাগের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। রিলায়েন্স গ্রুপকে দেওয়া উপহারের অর্থের তথ্যপ্রমাণ মেলায় নতুন করে মামলা শুরু করতে চলেছে ফ্রান্সের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পিএনএফ৷
আরও পড়ুন: মোদীতে কি আস্থা হারাচ্ছে আর এস এস ?
২০১৬ সালে চুক্তি অনুসারে, প্রাথমিকভাবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এর সঙ্গে ১২৬ টি ফাইটার বিমান কেনার কথা ছিল। ভারত সরকারের পক্ষে সে চুক্তি ভেঙে দ্যাসোল্টের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন চুক্তি অনুসারে, ৩৬ টি রাফাল মিডিয়াম মাল্টিরোল কম্বাট এয়ারক্রাফট কেনার কথা হয় দুই দেশের মধ্যে।পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ডিফেন্স-এর পক্ষ থেকে দ্যাসোল্টের অফসেট পার্টনার করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়াও চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনেক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তখন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ছিলেন ফ্রাঁসোয়া ওঁলা। ফ্রান্সের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ইম্যানুয়েল ম্যাক্রঁ তখন ছিলেন অর্থমন্ত্রী। সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি সংবাদ মাধ্যমে রাফাল নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে ভারতের শিল্প সংস্থা রিলায়েন্স গ্রুপকে ১০ লক্ষ ইউরো উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। দ্যাসোল্ট অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাফাল যুদ্ধ বিমানের ৫০টি রেপ্লিকা তৈরির জন্য বরাত দেওয়া হয় রিলায়েন্সকে। প্রতিটির জন্য খরচ ২০ হাজার ইউরো। কিন্তু বাস্তবে রেপ্লিকা তৈরি ও নির্মাণের কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি ওই সংস্থা। তদন্তে উঠে আসে ১০ লক্ষ ইউরো হিসাব-বহির্ভূত খরচ হয়েছে। এই সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রের ভিত্তিতে ফ্রান্সের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পিএনএফ-এর কাছে রাফাল দুর্নীতি মামলার ফের তদন্তের জন্য আর্জি জানায়। এর ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। ২০১৮ সালে তথ্যপ্রমাণের অভাবে রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি খারিজ করেছিল পিএনএফ। নতুন করে তদন্তের বিষয় মুখে কুলুপ এঁটেছে দ্যসোল্ট অ্যাভিয়েশন। রাফাল নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় ট্যুইট করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।ঘটনাচক্রে গত সেপ্টেম্বরে রাফাল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিএজি। ২০১৬-র রাফাল কেনার চুক্তিতে বলা ছিল, দ্যাসোল্ট চুক্তি-মূল্যের ৫০ শতাংশ প্রকল্প বা কাজের বরাত ভারতের কোনও সংস্থাকে দেবে এবং প্রযুক্তিগত সাহায্য করবে। সংসদে পেশ করা সিএজি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফ্রান্স সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং এমবিডিএ-র আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-কে সাহায্য করার কথা। কিন্তু তারা সেটা করছে না।