কলকাতা: ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেকেই চিনি থেকে ১০০ হাত দূরে থাকেন। পরিবর্তে বেছে নেন সুগার ফ্রি। কেউ আবার চিনি এড়াতে কৃত্রিম চিনি (Artificial Sugar) খান। কিন্তু জানেন কী কৃত্রিম চিনি থেকে হতে পারে ক্যানসারের (Cancer) মতো মারণরোগ। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অধীনে থাকা একটি কমিটির এমনটাই দাবি করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম চিনি অ্যাসপারটেমকে এখনও পর্যন্ত ‘সম্ভাব্য কারসিনোজেন’-এর তালিকায় রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের কথায়, কৃত্রিম চিনিই যে ক্যানসারের কারণ, তার সপক্ষে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনও। সেকারণেই সম্পূর্ণ তথ্য প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত একে সম্ভাব্যের তালিকাতে রাখা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে কোনও খাবার থেকে রোগ ছড়াতে পারে কিনা দেখার জনর দুটি সংস্থা রয়েছে। একটি সংস্থা খাবারটি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর কিনা তা দেখার চেষ্টা করে। অন্য সংস্থাটি খাবারের কতটা পরিমাণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর তার পরিমাপ করে। যদিও কৃত্রিম চিনি বা অ্যাসপারটেম কতটা খাওয়া উচিত, তার একটি পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে আগেই নির্ধারিত করা হয়েছিল। সারা দিনে শরীরের প্রতি এক কেজিতে ৪০ মিলিগ্রামের বেশি অ্যাসপারটেম প্রবেশ করলে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিনের এই পরিমাপটিই আপাতত মেনে চলার কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই সেই পরিমাণে কোনও রদবদল হয়নি। ঠাণ্ডা পানীয় থেকে চুইংগাম, টুথপেস্ট, বাজারজাত অধিকাংশ মিষ্টি, ফলের নির্যাস সমৃদ্ধ কম ক্যালরির দই ও কাশির ড্রপসহ অনেক দৈনন্দিন পণ্যে ব্যবহার হয় এই অ্যাসপারটেম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ফ্রানসেসকো ব্রাঙ্কা জানান, ঠাণ্ডা পানীয় সাধারণ চিনি বা কৃত্রিম চিনি দিয়ে খাওয়ার বদলে অন্যভাবেও খেতে পারেন। তা হল শুধু জল খাওয়া! ঠাণ্ডা পানীয়ের ক্ষতিকর দিকগুলি মাথায় রেখেই এমনটা বলেন ফ্রানসেসকো। শুক্রবারের ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’এর তরফে জানানো হয়, কৃত্রিম চিনি একটি সম্ভাব্য কারসিনোজেন। তবে কতটা পরিমাণ? সেটা ঠিক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ফুড অ্যান্ড এগ্ৰিকালচার অর্গানাইজেশনের যৌথ কমিটি জয়েন্ট কমিটি অন ফুড অ্যাডিটিভস বা জেইসিএফএ। জেনেভার এই সংস্থার শুক্রবার আগের পরিমাণকেই অপরিবর্তিত রাখে।