কলকাতা: ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। হাতের কাছেই রয়েছে পেইন কিলার (Pain Killer)। ঝটপট খেয়ে নিলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও ব্যথা। তবে এই সাময়িক শান্তি যে শরীরের কত বড় ক্ষতি ডেকে আনছে তা আপনি বুঝতেও পারছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, ঘন ঘন পেইন কিলার খাওয়ায় জন্য আপনি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন। বেশি পেইন কিলার খেলে শরীরে নানারকম রোগ বাসা বাঁধে। জেনে নিন নিয়মিত পেইন কিলার অর্থাৎ ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) খেলে কী ক্ষতি হয়-
লিভারের ক্ষতি- এক নাগাড়ে পেইন কিলার খাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে লিভারের উপর। এই অভ্যাস লিভারে উৎপাদিত উৎসেচক বিলিরুবিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
আরও পড়ুন:Cake | কেক বানানর সময় মেনে চলুন এই বিষয়গুলো
রক্ত পাতলা করে দেয়– লিভারের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন এবং নেপ্রোক্সেন-এর মতো পেইন কিলার রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়। একমাত্র যাঁদের রক্ত জমাট বাঁধার এবং হার্টের সমস্যা রয়েছে তাঁদের জন্যই এই ওষুধগুলি উপকারি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এসব পেইন কিলারের উপর নির্ভর না করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়াই ভাল। কারণ অত্যধির পেইন কিলার খেলে রক্ত বেশি পাতলা হয়ে যেতে পারে এবং অত্যধিক রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
হার্টের ঝুঁকি- গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) হার্টকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে,যাঁরা এই ওষুধগুলি খান তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তিন থেকে চার মাস প্রতিদিন ১ গ্রাম করে প্যারাসিটামল খেলে পরবর্তীতে লিভার ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। লিভারে ক্ষত, গ্যাস্ট্রিক আলসারের মতো সমস্যাকে ডেকে আনে এই অভ্যাস। এছাড়া ধীরে-ধীরে এই ধরনের পেইন কিলার কিডনিকে বিকল করে দিতে পারে। এমনকি, বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যদি টানা ২ সপ্তাহ পেইন কিলার খান তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিডনির উপর।