৫৮ বছরের দাম্পত্য, ‘বেলাশেষে’ ডিভোর্স! মামলা শুনে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

0
26

ওয়েব ডেস্ক: ‘বেলাশেষে’ সিনেমার (Bela Seshe) বিশ্বনাথ আর আরতি দেবীর ডিভোর্সের গল্পটা মনে আছে? ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর আচমকা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রৌঢ় যুগল। এবার বাস্তবেই এমন ঘটনার সাক্ষী হল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। রাজস্থানের (Rajasthan) জয়পুরের এক প্রৌঢ় দম্পতি বিয়ের পর ৫৮ বছরের সংসার করেন এবং তার পর বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) সিদ্ধান্ত নেন। আদালতে ডিভোর্সের মামলা করেন প্রবীণ স্বামী। এই মামলা শুনেই বড় মন্তব্য করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

জয়পুরের প্রবীণ স্বমীর ডিভোর্সের আবেদন শুনতেই চাইল না সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সুদেশ বনসল এবং বিচারপতি অনিলকুমার উপমান-এর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কে ছোটখাটো বিবাদ-অশান্তি স্বাভাবিক। এই পর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্ত্রী যেমন সমস্যায় পড়বেন, তেমনই পুরো পরিবারই সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানালেন বিচারপতিরা।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের কড়া মন্তব্যে ‘চিলিং ইফেক্ট’, জামিন মামলার বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানোর আর্জি এলাহাবাদ হাইকোর্টে 

কিন্তু ৫৮ বছরের দাম্পত্যে আচমকা কেন ধরল ফাটল? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৭ সালের জুনে বিয়ে হয়েছিল দম্পতির। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁদের সংসার নির্বিঘ্নেই চলছিল। দুই ছেলে-সহ সুখী পরিবারেই ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ২০১৪ সালে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। স্বামীর অভিযোগ, তিনি দুই ছেলের মধ্যে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে স্ত্রী নাকি ছোট ছেলেকে বাদ দিয়ে স্থাবর সম্পত্তির পুরোটাই বড় ছেলেকে দিতে চাইছিলেন। এই মতপার্থক্য থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে স্বামী প্রথমে ভরতপুরের পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। তবে সেই আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলা শুনে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, এত দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনের পর শুধুমাত্র পারিবারিক বিবাদকে ভিত্তি করে বিবাহ-বিচ্ছেদ মঞ্জুর করা যায় না। বিচারপতিদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কে মতানৈক্য থাকলেও তা ডিভোর্সের পর্যায়ে পৌঁছয় না সবসময়।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here