প্রাপ্তবয়স্ক যুগলের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে না হলে ধর্ষণ বলা যায় না: হাইকোর্ট

0
29

ওয়েবডেস্ক-  দীর্ঘদিন ধরে প্রণয়ের সম্পর্কে শারীরিক সম্পর্ক থাকার পরেও যদি সেটি বিয়ে পর্যন্ত না পৌঁছায় তাহলে তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না, ঐতিহাসিক রায় দিল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট (Uttarakhand High Court) । আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র বিয়ে না হলেই তাকে ধর্ষণ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। এই কারণে ধর্ষণ মামলা করা আইনের অপব্যবহার করা হয়।

আদালত সূত্রে খবর, এক তরুণীর অভিযোগ করেন, সূরজ বোরা (Suraj Bora) নামের এক যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি (Promise Of Marriage) দিয়ে তার শারীরিক সম্পর্ক (Consent In Relationships) গড়ে তোলেন। ৪৫ দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন বলে জানান ওই তরুণী। তদন্তের পর পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।

এর পর সূরজ বোরা হাইকোর্টে আবেদন করে জানান, দুজনের সম্মতিতে সম্পর্ক এগিয়েছে, তাই এটিকে ধর্ষণ বলা যাবে না। সুরজের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক, দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল।

এফআইআর-এ কোনও উল্লেখ নেই যে, শুরু থেকে বিয়ের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা নয়, এর ভিত্তিতে ধর্ষনের মামলা হওয়া উচিত নয়। অপরদিকে রাজ্যের সরকার ও অভিযোগকারীর আইনজীবীদের দাবি, তরুণী শুধু বিয়ের আশ্বাসেই সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন, তাই বিয়ে না করায় তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি ভুয়ো ছিল কিনা তা বিচার চলাকালীন প্রমাণ হতে পারে, তার ভিত্তিতে মামলাটি চলা উচিত।

আরও পড়ুন- নথি ছাড়াই বিমান চালানোর অভিযোগ, AIR INDIA-কে ১ কোটি টাকা জরিমানা

হাইকোর্টের বিচারপতি বলেন, বিয়ের উদ্দেশ নিয়ে সম্মতি দেওয়ার পরে বিয়ে না হলে সেই সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায় না। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে, আদালতকে জানাতে হবে সম্পর্কের শুরু থেকেই বিয়ের কোনও ইচ্ছে ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও বারবার সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক এটাই নির্দেশ করে যে, এটি পারস্পরিক সম্পর্ক কোনও প্রতারণা নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তের প্রতি অযথা হয়রানি। হাইকোর্ট এই মামলা খারিজ করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ২০২৩ সালের চার্জশিটও বাতিল করে দিয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here