ওয়েব ডেস্ক: যুদ্ধের আবহে আবারও রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের সময় বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) দামও। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের (Iran-America War) প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের জেরে দেশজুড়ে হাজার হাজার হোটেল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হোটেল মালিকদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে। এরমধ্যেই গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রের দাবি, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ। এই অবস্থায় তেল-গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়বে! টান পড়বে মজুত থাকা পেট্রোপণ্যে? বাড়বে কালোবাজারি? এই পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নগুলোই ঘোরাফেরা করছিল ভারতীয় আমজনতার মনে। যদিও তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়বে না বলেও দেশের মানুষকে আশ্বাস দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকেই মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধের আবহে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে বলেই জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু-সহ দেশের একাধিক বড় শহরেও। মঙ্গলবার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান কেমন কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তাই অনেক হোটেলই মঙ্গলবার থেকে পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই ছবি মুম্বই ও চেন্নাইতেও। চেন্নাইয়ের হোটেল মালিকদের সংগঠন ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে।তাদের দাবি, বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে বহু বুকিং বাতিল করতে হতে পারে। ফলে হোটেল ব্যবসায় বড়সড় লোকসান হবে। মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হোটেল গ্যাস বেশি লাগে এমন খাবার তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে, আবার অনেক জায়গায় হোটেল দ্রুত বন্ধও করে দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের আবহে গত কয়েকদিন আগেই ১৪.২ কেজি ওজনের বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম কেন্দ্র ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বর্ধিত দাম কার্যকরও হয়েছে। অর্থাৎ ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ৮৭৯ টাকার গ্যাস এবার কিনতে হচ্ছে ৯৩৯ টাকায়।বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯৯০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে রেস্তরায় খাওয়ার খরচ বাড়বে। এবার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমাও বাড়িয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগে ৫৫ দিনে রান্নার গ্যাস যাঁরা বুকিং করতেন, এখন ১৫ দিনে বুকিং করা শুরু করেছিলেন। আর সেই কারণেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হল। মূলত সাপ্লাইয়ের ঘাটতির আশঙ্কায় প্যানিক বুকিং যাতে না হয়, মজুত এলপিজি ভাণ্ডারে ভারসাম্য থাকে, সেজন্যই এমন পদক্ষেপ।হোটেল, রেস্টুরেন্ট থেকে রাস্তার পাইস হোটেলগুলোয়। কারণ এদের সব কিচেনেই ধোঁয়া ওঠে বাণিজ্যিক গ্যাসে। যে কারণে আগামিদিনে ছোট-বড় সব হোটেলই গ্যাস পেতে সমস্যায় পড়তে পারে।
