রাস্তায় নামবে, ‘অটো প্লেন’, দাম আর ফিচার জানলে চমকে উঠবেন, কিনতে লাইন পড়েছে

0
89

ওয়েবডেস্ক- প্রযুক্তির (Technology) হাত ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থা (India’s Transportation system) । বাজারে আসতে চলেছে ‘অটো প্লেন’ (Auto plane) । ইলেকট্রিক অটো ‘উডো’ বাজারে আনল মানিন্দ্রা, যা সংস্থা ‘অটো প্লেন’ (Auto Plane)  নামে অভিহিত করেছে। এটি একটি স্মার্ট ই-অটো (Smart E Auto) । একবার চার্জ দিলেই রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এই গাড়ির এক্স- শোরুম মূল্য রাখা হয়েছে ৩,৮৪,২৯৯ টাকা। তবে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অফারে এই মিলবে ৩,৫৮,৯৯৯ টাকায়। সংস্থার দাবি, দ্রুত পাল্টে যাওয়া পরিস্থিস্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই ‘অটো প্লেন’।

দক্ষিণ ভারতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারকে ধরতে ‘উডো’  ডিজাইন (‘Udo’ Design) ও প্রযুক্তির দিক থেকে আলাদা পরিচয় তুলে ধরতে চাইছে। এর নকশা বিমান থেকে অনুপ্রাণিত, তাই এটির নাম ‘অটো প্লেন’।

হায়দরাবাদে এটির লঞ্চ অনুষ্ঠানে সংস্থার সেলস হেড সৌরভ মিশ্র জানান, এই ই অটো শহরের মাইল পরিবহণে এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে। মেট্রো শহরগুলি তো বটেই অন্যান্য দ্বিতীয় শ্রেণির শহরগুলিতেও মানুষের জীবনে ব্যস্ততার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত ই যানের চাহিদা বাড়ছে। প্রচলিত পেট্রোল বা সিএনজি অটোর তুলনায় পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনার কথাও লঞ্চ অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন-  ‘ম্যাজিক’ নাকি টেকনোলজির জাদু? দেশি চশমা ঘিরে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী

প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘উডো’  বেশ শক্তিশালী। কারণ এতে রয়েছে ১১.৭ kWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা ১০ কিলোওয়াট শক্তি ও ৫২ এনএম টর্ক উৎপাদনে সক্ষম। সম্পূর্ণ মনোকক বডিযুক্ত এটি প্রথম ই-অটো বলে দাবি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে যাত্রী সাচ্ছন্দ্য। কারণ  চালক ও যাত্রীদের আসন অন্যান্য অটোর তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি পুরু,  ফলে দীর্ঘ যাত্রাতেও সমস্যা হবে না। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে লেগস্পেস,  হেডস্পেসে। বড় পিছনের গ্লাস যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ায়। নিরাপত্তার জন্য থাকছে শক্তিশালী ড্রাম ব্রেক ও ৩০.৪৮ সেমি টিউবলেস টায়ার।

এই ই-অটোর অন্যতম আকর্ষণ তিনটি ড্রাইভিং মোড—রেঞ্জ, রাইড ও রেস। রাস্তার ধরন অনুযায়ী মোড পরিবর্তন করা যাবে। আর রেস মোডে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার তিন চাকার এই যানে প্রথমবার যুক্ত হয়েছে ‘রিভার্স থ্রোটল’  প্রযুক্তি, যা ব্রেক না চেপেও গতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম। ট্র্যাফিক জ্যামের সমস্যা এড়াতে রয়েছে ‘ক্রিপ ফিচার’ এবং ঢালু রাস্তায় ভারসাম্য বজায় রাখতে রয়েছে হিল মোড অ্যাসিস্ট। এই বৈশিষ্ট্যগুলি চালকের নিরাপত্তা ও আরাম দুই বাড়াবে।

Mahindra & Mahindra-র সহায়ক সংস্থা হিসেবে মহিন্দ্রা লাস্ট মাইল মোবিলিটি দীর্ঘদিন ধরেই ই-মোবিলিটি ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুমন মিশ্রা বলেন,  শেষ মাইল পরিবহণকে মানুষ শুধু জীবিকা হিসেবে না দেখে, এটি একটি সম্মানের সঙ্গে উপার্জনের মাধ্যম  হয়— সেই লক্ষ্যেই ‘উডো’ তৈরি।  সেইসঙ্গে থাকবে বিমার সুবিধা। এই গাড়ি কিনলে ‘মহিন্দ্রা নেক্সট’ প্রকল্পের অধীনে ২০ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমা ও আর্থিক পরামর্শেরও সুবিধা মিলবে। তেলঙ্গানার জহিরাবাদ প্ল্যান্টে তৈরি এই ই-অটোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ লক্ষ ইউনিট, ভবিষ্যতে বিদেশে রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here