ওয়েবডেস্ক- দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে ১২০ ফুট চওড়া মঞ্চ। মূল মঞ্চ ৮০ ফুটের। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই রাজ্যবাসীকে বার্তা দিলেন মোদি। আজ ব্রিগেডের (Brigade) চেনা চরিত্রের প্রায় গোটাই পাল্টে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর (Pm Narendra Modi) সভার মূল মঞ্চটি দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের (Dakshineswar Bhavatarini Temple) আদলে সাজানো হয়েছিল। মন্দিরের দুধারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা পটচিত্র থেকে শুরু করে বাউল ও কীর্তনের মতো বাংলার নিজস্ব শিল্পকলা। রেসকোর্সে হেলিপ্যাডে নামার পর সরাসরি চলে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
মঞ্চে তাঁর একপাশে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী আর অপরদিকে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা। প্রথমে তাঁকে মালা ও পরে প্রধামন্ত্রীর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর পর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি চিত্র প্রধানমন্ত্রীর হাঁতে তুলে দেন শমীক ভট্টাচার্য। মা দুর্গার একটি মূর্তিও তাঁর হাতে তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন- মোদির মঞ্চে দিলীপ ঘোষ, মিটল দুরত্ব?
বাংলা রাজনীতিতে এই সময়ে বিজেপি মধ্যে দেখা গেছে বাংলা অস্মিতায় জোর। ভিন রাজ্যে যতই বাংলার শ্রমিকে হেনস্থার খবর সামনে এসেছে ততই বাংলার রাজনীতিতে বঙ্গ বিজেপি বাঙালিয়ানা তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে এই বাংলার হিতৈষী প্রমাণ করতে গিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ অমিত শাহকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘রবীন্দ্রনাথ স্যানিয়াল’ বলা হয়, এমনকী বিজেপির এক নেতা বলেন ‘মাতঙ্গিনী হাজরা’ মুসলিম ছিলেন। এই নিয়ে জোর চর্চায় বঙ্গ বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবল ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বাংলার মনীষীদের কতদিন আর এইভাবে হেনস্থা হতে হবে? কিন্তু বাঙালি হয়ে উঠতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না গেরুয়া শিবির। এর ফলে আজ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় সেই বাঙালিয়ানার আবেগ ধরা পড়ল। বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনবে বিজেপিই, মঞ্চ থেকে এমনই জোরালো দাবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
তবে বিজেপির এই মঞ্চসজ্জাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ওটা রাজনৈতিক মঞ্চ না কি থিমপুজো? দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে থিম করতে চাওয়া বিজেপিকে মনে করিয়ে দিতে চাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারটি ভবতারিণী মন্দিরের আদলেই তৈরি করেছিলেন।”
