ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। দুই দফায় রাজ্যের ভোট। ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের আর একমাসও বাকি নেই। রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ দিয়ে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে প্রচার করেছেন, আর আজ বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-দাঁতনে তৃণমূল প্রার্থীদের প্রচারে রাজনৈতিক সভা করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সভা থেকে বিজেপিকে উৎখাতের ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই সঙ্গে বলেন, ‘বিজেপিকে ভোকাট্টা করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’। দাসপুরের জগন্নাথপুরের সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দাসপুর সোনার হাবে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন।
প্রার্থী আশিস হুতাইতের সমর্থনে এদিন প্রথম সভাটি করেন অভিষেক।এলাকার স্থানীয় সমস্যাগুলি নিয়েই সরব হন অভিষেক। তার সঙ্গে গত ১৫ বছরে দাসপুর বিধানসভা এলাকায় সরকারি নানা প্রকল্প এবং উন্নয়ন হয়েছে তার তথ্যও তুলে ধরেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেবশ্রম মতো এবার থেকে দুয়ারের মিলবে স্বাস্থ্য পরিষেবা।এদিন ফের একবার তৃণমূলের ‘দশ প্রতিজ্ঞা’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আজীবন বাংলার মা বোনেরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপিকে রীতিমতো তুলোধনা করে তিনি বলেন, ”গত কয়েকদিন আগেই দাসপুরের বিজেপির এক নেতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া মহিলাদের ঘরবন্দি করে রাখার নিদান দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়াও এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-সহ যে সমস্ত উন্নয়ন মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার করেছে সেই পরিসংখ্যানও এদিন দাসপুরের সভা থেকে তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: জয় শুধু সময়ে অপেক্ষা, কনফিডেন্ট অভিষেক, আর কী কী বললেন?
বিজেপিকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, বিজেপির প্রার্থী বাড়ি আসলে ঘর দুয়ারটা পরিস্কার করিয়ে নেবেন। হঠাৎ করেই মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। শেষ বাইরের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে জবাবটা দিতে হবে।সেই সঙ্গে অভিষেক বলেন, নোটবন্দি থেকে শুরু করে SIR-এর জন্য বিজেপি আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে। এ বার আপনারা লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে উৎখাত করবেন। অভিষেক বলেন, পদ্মফুলের জামানত বাজেয়াপ্ত করুন। জোড়া ফুলের সরকার গঠন হলে কেশিয়ারি ও দাঁতন এর উন্নয়নের দায়ভার আমি আমার কাঁধে নিচ্ছি। যেভাবে আমি আমার কেন্দ্রে কাজ করি সেভাবেই এখানে কাজ হবে। দীর্ঘদিনের দাবি, মোহনপুরের ৫ টা অঞ্চল নিয়ে যদি একটা থানা করা যায়, সেটা দেখব। মোহনপুর এলাকায় পান চাষিদের জন্য, পান সংরক্ষণ কেন্দ্র যদি করা যায়। আপনার সরকার মোদিজির সরকার যদি এই সব এলাকায় একটা চাকরি তুলে দিয়েছে যদি দেখাতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।১২ বছর ক্ষমতায়, আরও ১৪ বছর ক্ষমতায় চাইলে ওপেন ডিবেট হোক, কে কতটা কাজ করেছে, এই এলাকায়। বিজেপির প্রার্থী বাড়ি আসলে ঘর দুয়ারটা পরিস্কার করিয়ে নেবেন। হঠাৎ করেই মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। শেষ বাইরের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে জবাবটা দিতে হবে। বিজেপিকে ভোকাট্টা করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, ”আমার অফিস থেকে বুথ লেভেল এজেন্ট যারা, তাঁরা যুক্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আমাকে বলেছেন, বিজেপির দিল্লি অফিস থেকে ফোন আসছে তাঁদের কাছে। বলা হচ্ছে, অনেক তৃণমূল করেছ, আর নয়।” কিন্তু তৃণমূলের কাছে এই বিএলএ-২ রাই শক্তি। কখনই তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে বেইমানি করবে না বলে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। বিজেপি থেকে টাকার অফার পেলে দরদাম করবেন। যদি দু’হাজার টাকা ওরা দিতে চায়, সেটা দরদাম করে ৫০০০ করবেন। ৫০০০ দিতে চাইলে ১০ হাজার টাকা চাইবেন। আর ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাইবেন। কারণ টাকাটা আপনার। টাকা বিজেপির কাছ থেকে নেবেন আর ভোট করাবেন জোড়াফুলের হয়ে।”

