ওয়েবডেস্ক- ভোটের (Assembly Election 2026) আবহে দায়িত্ব বাড়ল সুব্রত গুপ্তের (Subrata Gupta) । রাজ্যের নির্বাচন অবজারভারের দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁকে। দুদিনের বঙ্গ সফরে এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) । ছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজ্যে এসে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। ভোটের আবহে এবার দায়িত্ব বাড়ানো হল সুব্রত গুপ্তের। এর আগে এসআইআর (SIR) পর্ব শুরুর মুখে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল। স্পেশাল রোল অবজারভারের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি।
আজ, মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকও করেন জ্ঞানেশ কুমার। সেখানেই সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই বৈঠকের কিছু সময় পরেই দেখা যায় সুব্রত গুপ্তকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া হল। তাঁকেই রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক (Election observer) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুব্রত গুপ্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার ছিলেন। সরকারি আমলা হিসেব তিনি দীর্ঘদিন কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। এবার এসআইআর শুরুর সময় কমিশন তাঁকে বড় দায়িত্ব দেয়। তিনি রোল অবজারভারের দায়িত্ব পান। এসআইআরে কাজকর্ম প্রতিটি ধাপে খুঁটিনাটি নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। এসআইআরের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলায় নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখেন জ্ঞানেশ কুমার।
এসআইআর পরবর্তী বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হিংসামুক্ত করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার জায়গায় কোন কোন ওসি এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসাররা ছিলেন সেই তালিকা চাইল নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন- দিল্লি ফেরার আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে একগুচ্ছ নির্দেশ জ্ঞানেশের
বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে না তা একেবারে বলা যাবে না। বোমাবাজি থেকে খুন – এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটে।যদিও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। এনিয়ে জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধ পরিকর কমিশন। কোনওরকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে।ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রত্যেক পুলিশ সুপারদের কোনও হিংসা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে যদি ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন। বুথের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে তবেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন ভোটাররা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ভোটকেন্দ্রে থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে বলেও জানিয়েছেন জ্ঞানেশ।
