পশ্চিম মেদিনীপুর: বিহারে ভোটের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল এনডিএ (NDA) সরকার। ভোটে জয়ের পরে এখন সেই টাকাই ফেরত চাওয়া হচ্ছে। না দিলে উপভোক্তাদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
বাংলায় সরকারে এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি, যা তৃণমূলের দেওয়া নগদ অর্থের দ্বিগুণ। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিহারের প্রসঙ্গ টেনে পদ্মশিবিরকে চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘তৃণমূল সরকারের মতো বাংলায় বিজেপি যদি বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারে, রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
আরও পড়ুন: ‘বদলা নেওয়ার দিন আসছে’, বাঁকুড়ায় বিস্ফোরক মমতা
তাঁর প্রশ্ন, দেশে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। সেখানে কেন নিঃশর্তে মহিলাদের ভাতা দিতে পারেন না? তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে বলেছিল, সরকার গড়লে ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্টে ২৫০০ টাকা দেওয়া হবে। ১৪ মাস হয়ে গেল। কেউ পাঁচ পয়সা পাননি।’
শুধু মহিলাদেরই নয়, রাজ্যের যুবক-যুবতীদেরও মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপির ইস্তেহার হলো চিটফান্ডের লিফলেট।’ রবিবার দুপুরে হুগলির ডানলপ মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘১২ বছর মোদীবাবু ক্ষমতায়। আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ১৫ বছর ধরে। আসুন, রিপোর্ট কার্ড নিয়ে যাই। তর্ক হোক। বিজেপি যদি দেখাতে পারে কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঁচ পয়সা দিয়েছে বাড়ির জন্য, আমি আর হুগলিতে আসব না। ওরা যদি দেখাতে পারে ১০০ দিনের টাকা দিয়েছে, তৃণমূলের হয়ে প্রচার করব না।’ এখন বাংলার মানুষ যে সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাতে মোদীর সরকারের ১০ পয়সার অবদান নেই বলেও জানান অভিষেক। বলেন, ‘আমরা কর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করি। বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে। বিজেপি মানেই ডিটেনশন, তৃণমূল মানেই নো-টেনশন।’
বিজেপিকে আফগানিস্তানের তালিবানের সঙ্গেও তুলনা করেছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘বিজেপি আর তালিবানের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তালিবান বৌদ্ধমূর্তি ভাঙে। আর বিজেপির গুন্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে।’ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খেতে দেবে না বলেও দাবি করেন অভিষেক। বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশি বলে, কারণ আমরা মাছ খাই, মাংস খাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করে এরা। স্বামী বিবেকানন্দকে অসম্মান করে। বিহারে বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না। ওরা এই পরিবর্তন আনতে চায় এখানে। তখন আর ডিম, মাছ, মাংস নয়, পনির আর আলু দিয়ে ভাত খেতে হবে।’
