কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কমিশনের

0
39

কলকাতা: মালদহের কালিয়াচকের (Chaos in Malda Kaliachak) ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সূত্রের খবর, আগামিকাল ৩ এপ্রিল সকালেই রাজ্যে পৌঁছবেন সিবিআই আধিকারিকরা।এই ঘটনায় কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। এর পরেই সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

বুধবার মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। SIR-এ নাম বাদের প্রতিবাদে চলে বেনজির তাণ্ডব। আগুন লাগানো হয় গাড়িতে। অবাধে চলে ভাঙচুর। সকাল থেকে রাত অবধি আটকে রাখা হয় ৩ মহিলা সহ ৭ জন বিচারককে। ঘন্টার পর ঘণ্টা চলে ঘেরাও। আটকে ছিলেন হাইকোর্ট নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। শেষমেশ গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এমনকী কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সুপ্রিম কোর্টকে বিস্তারিত জানিয়ে একটি চিঠি দেন।শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এর পরেই সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

আরও পড়ুন: “আজ রাত ১২ মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে..” মোথাবাড়ি কাণ্ডে ‘ডেডলাইন’ জ্ঞানেশ কুমারের

কালিয়াচক কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এসআইআরের (SIR) কাজে যুক্ত সাত বিচারককে মালদার মোথাবাড়িতে আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এক মহিলা বিচারকের কাতর কণ্ঠস্বর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে— যেখানে তিনি নিজের বেঁচে ফেরা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।সেই ঘটনা বুধবার গভীর রাতে মালদহের কালিয়াচকে জনবিক্ষোভ। আর এতে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন অনেকে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) তোপের মুখে রাজ্য পুলিশের ডিজি। একইসঙ্গে মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও তোলা হয়েছে প্রশ্ন। জ্ঞানেশের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ। তাঁর প্রশ্ন, শুরুতেই কেন পদক্ষেপ করা হয়নি? সিইও অফিসের সামনে দু’দিন ধরে কেন গন্ডগোল চলছে? সেখানে এত লোক জমা হলেন কী ভাবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জ্ঞানেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এক প্রকার হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, সুযোগ একবার দেওয়া হচ্ছে। ভাবেন না যেন বারবার সুযোগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন ‘ডেডলাইন’। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যেই চিহ্নিত করতে হবে দোষীদের, করতে হবে গ্রেফতার। সাফ নির্দেশ সিইসি-র। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here