ওয়েব ডেস্ক : আর কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে হতে চলেছে বিধানসভো ভোট (West bengal Assembly Election 2026)। এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম দিকেই হতে পারে নির্বাচন (Vote)। তবে তার আগেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল বিজেপি (BJP)। সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র (Paribartan Yatra) অনুমতি পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তার পরেই এই যাত্রার কর্মসূচি বিস্তারিত ঘোষণা করলেন বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
গেরুয়া শিবিরের (BJP) তরফে জানানো হয়েছে, ১ মার্চ থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে। ১ মার্চ ৪টি বড় জনসভা হবে। ২ মার্চ ৫ টি বড় জনসভা হবে। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান এবং আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। এই কর্মসূচিতে চলাকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন এই যাত্রার সময়। দোলের কারণে ৩,৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির। কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে এই যাত্রা শেষ হবে। সেদিন জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই কর্মসূচির সময় ৬৪ বড় জনসভা, ৩০০ ছোট সভা হবে। ২৫০ টি বিধানসভা দিয়ে এই যাত্রা যাবে। বাকি ৪৪ টি বিধানসভায় ব্রিগেড অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কর্মসূচি হবে।
আরও খবর : বেলডাঙা অশান্তি মামলায় আদালতে পেশ অভিযুক্তরা
এই কর্মসূচি নিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, এই যাত্রার সময় এক হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত করতে পারবে না। সঙ্গে কঠোরভাবে আইন মানার কথা জানানো হয়েছে।
এই যাত্রা প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) দাবি, বাংলায় সরকার নেই। তৃমমূল সরকার রাজ্যের পরিবেশ নষ্ট করেছে। অন্যদিকে দূর্নীতি নিয়েও শাসক দলকে আক্রমণ করেছেন তিনি। তৃণমূলের হতাশ কর্মী, এমনকি বাম ও কংগ্রেসের সমর্থকরাও এই যাত্রায় শামিল হোন, এটাও জানিয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মোট ৫০০০ কিমি রুট ম্যাপ রয়েছে। গৃহ সম্পর্ক অভিযানে পাশপাশি এই রাজ্যে সদস্যতা অভিযানের মাধ্যমে আমরা প্রায় ৫০ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই পরিবর্তনের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। এবার সেটাকেই আমরা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী নিজে গ্যারান্টি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার। এই যাত্রাকে আমরা সর্বস্তরে জনগণকে সংযুক্ত করব।”
বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেছেন, “এই যাত্রা ঐতিহাসিক যাত্রা হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চাইছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এমনকি ভবানীপুরেও মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। ১০০০ এর বেশি মন্ডল, ৩৮ টি সাংগঠনিক জেলা, ১১০ কিমি বেশি রুটে নেতৃত্ব ৫৬ টি সভায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। এই যাত্রা পরিবর্তনের গঙ্গাকে ভগীরথের মত পথ দেখাবে। এই যাত্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।”
দেখুন অন্য খবর :
