কলকাতা: দফায় দফায় প্রার্থী ঘোষণা করেও অস্বস্তি কাটছে না বিজেপির (BJP)। প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছিলই, সেই আঁচ এবার সরাসরি প্রার্থী বদলে দিতে বাধ্য করল গেরুয়া শিবিরকে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে প্রবল চাপের মুখে শেষমেশ বদল করা হল প্রার্থী।
প্রথমে ওই কেন্দ্রে কৌশিক রায়কে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ সরাসরি আপত্তি জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, প্রার্থী বদল না হলে এলাকায় সংগঠন চালাবেন না, এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও বেঁধে দেন বিক্ষুব্ধরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেষ পর্যন্ত পিছু হটল দল। ময়নাগুড়িতে নতুন মুখ হিসেবে আনা হল ডালিম রায়কে।
আরও পড়ুন: ‘আগে ভোটার, পরে ভোট’ নদিয়ায় প্ল্যাকার্ড গায়ে ফর্ম ফিলআপে কংগ্রেস প্রার্থীরা
এদিকে, একইসঙ্গে আরও ১৩টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। কলকাতার চৌরঙ্গীতে প্রার্থী হয়েছেন সন্তোষ পাঠক, যিনি সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সিতাইয়ে আশুতোষ বর্মা, নাটাবাড়িতে গিরিজাশঙ্কর রায়, বাগদায় সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে মগরাহাট পূর্বে উত্তম কুমার বণিক, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা এবং সোনারপুর উত্তরে দেবাশিস ধরকে লড়াইয়ে নামানো হয়েছে। হাওড়া দক্ষিণে শ্যামল হাতি ও পাঁচলায় রঞ্জনকুমার পাল পেয়েছেন টিকিট। পাশাপাশি চণ্ডীপুরে পীযূষকান্তি দাস, গড়বেতায় প্রদীপ লোধা, মেমারিতে মানব গুহ এবং বারাবনিতে অরিজিৎ রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তা সামাল দিতে এবার আরও সতর্ক কৌশল নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ময়নাগুড়ির ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

