আলিপুরদুয়ার : রাতের অন্ধকারে বিজেপি নেতাদের (Bjp Leader) বাড়িতে ঢিল ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল আলিপুরদুয়ার শহরে (Alipurduar) । ভোট ঘোষণার আগে ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী প্রথমে বিজেপির জেলা আইটি আহ্বায়ক শম্ভু বিশ্বাসের বাড়িতে ঢিল ছোঁড়ে। হঠাৎ পাথর ছোঁড়ায় তার বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর একই কায়দায় আলিপুরদুয়ারের পল্লীমঙ্গল এলাকায় বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি মৌসুমী ঘোষালের বাড়িতেও ঢিল ছোঁড়া হয়। সেখানেও বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে যায় বলে অভিযোগ।
বিজেপি নেতা শম্ভু বিশ্বাস জানান, “এ ধরনের ঘটনা আমার জীবনে আগে কখনও ঘটেনি। গতকাল রাতে পার্টি অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছিলাম। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি একটি বাইক দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যাচ্ছে। অন্ধকারে প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। পরে দেখি পাথর ছুঁড়ে আমাদের বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ব্যক্তিগত কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। বর্তমানে পার্টির কাজকর্ম করছি বলেই হয়তো কোনও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। ঘটনার পর পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নিয়েছে।”
আরও পড়ুন- পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি, আজ শপথ লোক ভবনে
অন্যদিকে বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি মৌসুমী ঘোষাল বলেন, “রাতের অন্ধকারে বাইকে এসে দুষ্কৃতীরা আমার বাড়িতে ঢিল ও পাথর ছুঁড়েছে। আলিপুরদুয়ার বরাবরই শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।”
এ বিষয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি মিঠু দাস জানান, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা যায়নি। তবে ঘটনার কথা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই রাতের অন্ধকারে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতা ভাস্কর মজুমদার বলেন, “বিজেপির মধ্যে যা কিছু হয় তার দোষ ওরা সবসময় তৃণমূলের ঘাড়ে চাপায়। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দলের কেউ এতে জড়িত নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। সেই জনরোষের ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁর মন্তব্য।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।।
