কলকাতা বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২ |
K:T:V Clock
কবিগুরুই এনাক্ষীর নামকরণ করেছিলেন
চয়নিকা চক্রবর্তী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১, ০২:০৫:২৫ পিএম
  • / ১১২১ বার খবরটি পড়া হয়েছে

“….. তোমার মেয়েটির বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে এণা নামটি ওকে মানাবে। হরিণীর মতো কালো চোখ, হরিণীর মত চঞ্চল”
ইতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ওপরের চিঠিটি কবিগুরু ১৯৩৫ সালের ৫ জুন লিখেছিলেন সদ্যপ্রয়াত সাহিত্যিক এনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের মা পারুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সাহিত্যানুরাগী পারুলদেবী নতুনকে বরণ করে নেওয়ার পর কবিগুরুকে চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন নবাগতার নামকরণের উদ্দেশ্যে। মায়ের অন্তরতম ইচ্ছে ছিল কবির অক্ষরের ছোঁওয়া-ধন্য হোক তার নবীন কুঁড়ি। তেমনিটিই হয়েছিল। কবিগুরুর ‘এণা’ হয়ে উঠলেন আজকের এণাক্ষী। কবিগুরু নিজের হাতের লেখা চিঠিতে এনাক্ষীর নামকরণ করেছিলেন। জন্ম পাটনায়, ১৯৩৪-এর ডিসেম্বরে ।পাটনা হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন তাঁর পিতা বসন্ত কুমার বন্দোপাধ্যায়। পর পর তিন প্রজন্মের পাটনা হাইকোর্টে একশো বছরের প্র্যাকটিসের ইতিহাস গড়ে তোলা এক আইনজীবী পরিবারে তাঁর জন্ম । বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্রর প্রিয় ছাত্র মুকুন্দলাল চক্রবর্তীর দৌহিত্রী ছিলেন এণাক্ষী। তিনি কলেজ স্ট্রিটের ‘চক্রবর্তী এন্ড চ্যাটার্জী’ প্রকাশনা সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহার ছাত্র শান্তিময় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এরপর স্থায়িভাবে তাঁর কলকাতায় থাকা। একসময় স্বামীর কাজের সূত্রে তাঁর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিন বছরের জন্য। কখনো তিনি কন্যা,বোন,স্ত্রী,পুত্রবধূ, কখনো মা। আবার কখনো তিনি শিক্ষিকা, যে আবাসনে থাকেন সেখানে সকলের প্রিয় এণাক্ষীদি, নতুন যৌবনের দূত-দের পথপ্রদর্শক,আন্টি ও দিদা। এরই মাঝে তিনি পাঠকের লেখক, যিনি পাঠক থেকে পাঠকে অনায়াসে বিলিয়ে দিতে পারতেন রাশি রাশি প্রাণশক্তি তার মৌলিক রচনা, অনুবাদের আধারে। সকলের মধ্যে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে হাল ধরলেন কল্পবিজ্ঞানের। নিখাদ আনন্দ আজকের কথায় ‘জাস্ট চিল’ এর বীজ রোপণ করেছিলেন তার রম্য রচনাতে। এছাড়া সম্প্রচারকারী, টেলিকাস্টার আর গবেষক এবং ডকুমেন্ট্রি চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার অনূদিত কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিক্রম শেঠ এর উপন্যাস ‘আ সুইটেবল বয়’এর বাংলা ‘সৎপাত্র’। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসটি তাঁর ইংরেজি অনুবাদে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। লীলা মজুমদারের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ‘সন্দেশ’ – এ লিখেছেন বেশ কিছু বছর। সাহিত্য একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বীকৃতির ঝুলি ভরে উঠল। সম্মানে পেলেন রবীন্দ্র পুরস্কার, বিদ্যাসাগর পুরস্কার, কথা ট্রান্সলেশন পুরস্কার ও কালিদাস নাগ স্মৃতি পুরস্কার। সহ লেখক হিসেবে তাঁর লেখা ‘দুটি শিরোনাম’ সাতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল ।
এক বন্ধুর উৎসাহে একটি বইয়ের কাজের সূত্রে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল । আমার নতুন লেখক ও প্রকাশকের আস্ফালনের উপর যত্নশীল চাহনি বুলিয়ে মার্জিত করেছিলেন তিনি। কাজের পর চা সহযোগে চলত আড্ডা..। বর্ষীয়ান হলেও সমসাময়িক বিষয় ব্রাত্য ছিল না সে আড্ডায়। করোনার কষাঘাত এবং লকডাউনের পরীক্ষাও কাবু করতে পারেনি ছড়াকার এনাক্ষীকে। ‘ববি-বিলি-বান্টা’ এইভাবে একই সুরে বলতেন তিনি তার তিন ছেলে মেয়ের নাম। তাদের নিয়ে কত ছড়া যে তিনি রেখে গেছেন; পড়ে বড়োরাও হেসে লুটোপুটি খায়।গতবছর তাঁর নাতির বিয়েতে, তাকে নিয়ে লিখে যান তাঁর শেষ ছড়াটি। এই করোনা আবহের শুরুতেই তাঁরা তাঁদের মাকে তাঁদের কাছে নিয়ে যান, গুরগাঁও-তে। সেখানেই ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুরভাষ এ আমার সঙ্গে টানা এক ঘন্টাও আড্ডা চলতো। ছেলেমেয়ে,বউ,জামাই, নাতি-নাতনিদের কাছে পাওয়ার আনন্দ, প্রতিদিন বিকেলে অনলাইনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আড্ডা, এসব তিনি খুবই উপভোগ করেছেন। সে কথা জানাতে ভুলতেন না কখনোই। নেটফ্লিক্সে কোরিয়ান ছবির একজন ভক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে কোরিয়ান ছবির উপর এণাক্ষীদির লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার জনপ্রিয় ইংরেজি কাগজে। মনে আশা ছিল তার সঙ্গে বসে এসব নিয়ে চর্চা করার। প্রকাশনার কাজে তিনি আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করতেন। নতুন কাজের আশায় উন্মুখ হয়ে থাকতেন। ৮০ ঊর্ধ্ব একজন মানুষের এই প্রাণশক্তি একদিকে আমাকে সতেজ ও অন্যদিকে কোণঠাসা করতো। ছয়ের দশকের লেখিকা একবিংশ শতকে পাঠকের কাছে পৌঁছনোর অদম্য ইচ্ছেয় অনলাইন আড্ডায় আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গত বছর জুন মাসে। এবছর মে মাসে কোনো ফোন পাইনি। দুবার আমি নিজে চেষ্টা করেছিলাম। নিরুত্তর থেকে গেল। পরে জানলাম কোভিড খবর পেয়েছে এণাক্ষীদির। ধরে ফেলেছে তাঁকে। লড়াই চলছে বেশ কিছুদিন। তারপর ২৫শে মে ৮৬ বছরের প্রাণশক্তির হাত ধরতে হলো কোভিডকে বাঁচার জন্য। প্রতিটি কথোপকথনের শেষে প্রতীক্ষা একটা থেকেই যেত ওনার কলকাতা ফেরার। হাসতে হাসতেই জিজ্ঞাসা করতেন কলকাতার কি খবর? কলকাতায় ফিরতে পারব তো? আমার গাছগুলো….
কিছু কথা অসমাপ্ত থেকে গেল। এক জীবনে এমনই হয়। তাই একে সমাপ্তি না বলে open-ended বলাটাই যুক্তিসঙ্গত ।

আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

২ সন্দেহভাজন আল কায়েদা জঙ্গি গ্রেফতার উত্তর ২৪ পরগনায়
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
Afghanistan: কাবুলের মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২০
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
Sukanya Mondal: কলকাতায় এসে পৌঁছলেন সুকন্যা সহ ৬ ঘনিষ্ঠ, হাজিরা দেবেন আদালতে
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
Weather Update: বঙ্গে ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, আজ থেকে দক্ষিণের সব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
Sukanya Mondal: টেট দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্টে আজ হাজিরা অনুব্রত-কন্যার
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
IND vs ZIM: নজর শুধু বিরাটের ব্যাটে
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
Face Masks: বাড়ছে করোনা, বিমানের ভিতর যাত্রীদের বাধ্যতামূলক পরতে হবে মাস্ক
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
Tamil Nadu: জাতীয় পতাকাকে স্যালুট জানানোয় আপত্তি, বিতর্কে তামিলনাড়ুর খ্রিস্টান স্কুল শিক্ষিকা
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
সুপ্রিম কোর্টে ফুটবল ফেডারেশনের শুনানি আবার ২২ আগস্ট
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
Hare School: দেহ উদ্ধার হেয়ার স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের, অবসাদ থেকে আত্মহত্যা? উঠছে প্রশ্ন
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
ইস্ট বেঙ্গলের আর্কাইভ উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এটা বিশ্বসেরা
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
Howrah Cash Seizure: ঝাড়খণ্ডের ৩ কংগ্রেস বিধায়ককে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
অনুব্রত ও ঘনিষ্ঠদের ১৭ কোটির ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
পার্থর প্রাক্তন দেহরক্ষীর সাত আত্মীয়ের চাকরি, ১ সেপ্টেম্বর সিবিআই হাজিরার নির্দেশ
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
Weather Report: ফের নিম্নচাপের সম্ভাবনা, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণে
বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team