ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ। ইরানে (Iran) হামলা, পাল্টা মিসাইল আক্রমণ, একাধিক দেশে সেনাঘাঁটিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ভাইরাল (Viral) বুলগেরিয়ার (Bulgaria) অন্ধ মিস্টিক নারী বাবা ভাঙ্গার (Baba Vanga) কথিত ভবিষ্যদ্বাণী। দাবি করা হচ্ছে, তিনি নাকি বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন- ‘সিরিয়ার পতন’ থেকেই শুরু হবে এক ভয়ংকর মহাযুদ্ধ, যা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে।
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া বাবা ভাঙ্গাকে অনেকেই “বলকানের নস্ট্রাদামুস” বলে অভিহিত করেন। শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর মধ্যে ভবিষ্যৎ দেখার অলৌকিক ক্ষমতা এসেছে। অনুসারীদের মতে, ৯/১১ হামলা বা কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও তিনি নাকি আগাম বলে দিয়েছিলেন। তবে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের একাংশ বরাবরই এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, তাঁর অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও নির্ভরযোগ্য লিখিত নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশই লোকমুখে প্রচারিত।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর ঠিক আগে কী করছিলেন খামেনেই? সামনে এল সেই তথ্য
🌍 WORLD | 🇸🇾 SYRIA: Baba Vanga, nicknamed the “Nostradamus of the Balkans”, warned that the fall of Syria would trigger a catastrophic global conflict.
In her prophecy, Baba Vanga said, “When Syria falls, there will be a great war between the West and the East. In the spring a… pic.twitter.com/d7klyYMTiu
— 🌐geopolitics in the picture (@geogeolite) December 9, 2024
সবচেয়ে বেশি আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর একটি ২০২৬ সালকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন, “সিরিয়ার পতন হলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে মহাযুদ্ধ শুরু হবে। বসন্তে প্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হবে, তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে এবং পশ্চিমকে ধ্বংস করে দেবে।” এমনকি দাবি করা হয়, এই যুদ্ধে ইউরোপ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং পরবর্তীতে রাশিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, ফলে বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে। যদিও এসব বক্তব্যের কোনও প্রত্যক্ষ নথি নেই এবং গবেষকদের মতে, পরবর্তী সময়ে ঘটনাবলির সঙ্গে মিলিয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সাজানো হয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আবহ তৈরি হলেই মানুষ ভবিষ্যৎ জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় এমন ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, অস্থির সময়ে মানুষ কোনও পূর্বনির্ধারিত ব্যাখ্যা বা ‘প্যাটার্ন’ খুঁজতে চায়-যাতে অনিশ্চয়তার ভয় কিছুটা হলেও কমে। সেই কারণেই এক্স (X) বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সংকটের মুহূর্তে বাবা ভাঙ্গার নাম বারবার ট্রেন্ডিং হয়।
সব মিলিয়ে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই উদ্বেগজনক হোক না কেন, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে যে আলোচনা চলছে তার অধিকাংশই প্রমাণবিহীন ও বিতর্কিত। তাই আতঙ্ক নয়, বরং নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
