মাটিতে ফলে তরল সোনা, ইরানের তেলই পৃথিবীর মধ্যে সর্বোত্তম, কতটা চাপে আমেরিকা?

0
25

ওয়েবডেস্ক- ইরানের (Iran)  তেলকে তরল সোনা (Oil Reserves) বলাটাই একদম যথোপযুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির তরল রিজার্ভ শুধু বিশাল নয়, বিশ্ববাজারেও অত্যন্ত সমাদৃত। ইরান বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। তাদের মাটির নীচে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রয়েছে, তা দিয়ে কয়েক দশক অনায়াসেই বিশ্বচাহিদা মেটানো সম্ভব। অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানে তেল উত্তোলনের খরচ তুলনামূলক কম, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলে। পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) আর হরমুজ প্রণালীর (Strait Of Hormuz) মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পাশে অবস্থান হওয়ায় ইরান খুব সহজেই এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে তেল সরবরাহ করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার (Venezuela) মতো ইরানের তেলের ভাণ্ডার দখল করবে আমেরিকা (America) ! আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, এবার তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) । দাবি করা হয়েছে, আধিকারিক পর্যায়ে এই বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে হোয়াইট হাউসে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনই কিছু স্পষ্ট করতে নারাজ।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, আমেরিকা বিভিন্ন কৌশলে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। পেন্টাগনের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌবাহিনী ধ্বংস করা, যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

ইরান সরকারের অভিযোগ যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদ ও তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। বিশেষ করে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যৌথ হামলায় হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের আগে ভেনেজুয়েলার উপরেও একইভাবে আক্রোশ মেটায় আমেরিকা।

আরও পড়ুন-  খামেনেই নিহতের পর সক্রিয় ‘স্লিপার সেল’? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভোররাতে ভেনেজুয়েলার উপর আক্রমণ চালায়া আমেরিকা। যে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন অ্যাবসলুট রেজলভ’ (Operation Absolute Resolve)। অতর্কিতে আক্রমণ চালায় আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। আমেরিকার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, ও মার্কিন তেল কোম্পানির গুলির স্বার্থ রক্ষা করা, এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ ছিল। এখন বলায় ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে। মার্কিন সরকার তাদের ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ তদারকি করছে। ভেনেজুয়েলার পরই ইরানের উপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায় আমেরিকা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here