হাড়গোড় না ভাঙা পর্যন্ত বউ পেটানোর ‘অধিকার’ আফগান সরকারের

0
71

ওয়েব ডেস্ক: বউ পেটানোকে বৈধ ঘোষণা করেছে তালিবানরা। আফগানিস্তানে (Afghanistan) স্ত্রী-সন্তানের উপর মারধর বৈধ! স্বামীদের শাসন করার ‘আইনি’ ক্ষমতা দিল আফগান সরকার। তালিবাম সরকারের নয়া আইনে বলা হয়েছে, স্বামীদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের হাড় ভাঙা বা ক্ষত না হওয়া পর্যন্ত শারীরিকভাবে অত্যাচার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একজন পুরুষকে কেবল তখনই দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে যদি মহিলা আদালতে হয়রানির সঠিক প্রমাণ দেন। মারধর খেয়ে কোর্টে যান, প্রমাণ করুন। ক্ষতচিহ্ন দেখান। তবেই বিচার মিলবে। তবেই তা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বলে গণ্য হবে।

আফগানিস্তানে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে ৯০ পাতার পেনাল কোড আইন প্রকাশ করেছে তালিবান সরকার। যেখানে বলা হচ্ছে সেদেশের পুরুষরা, স্বামীরা শাসন করতে পারবে তাদের স্ত্রী বাচ্চাদের। কেমন শাসন, কোনও অন্যায় করলে তার শাস্তি দেওয়া যাবে। শাস্তি হিসেবে বেধড়ক মারধর করা যাবে। মহিলাকে বিচারকের কাছে তার আঘাত দেখাতে হবে এবং সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, সেইসময় তার স্বামী বা একজন পুরুষ অভিভাবককে আদালতে তার সঙ্গে থাকতে হবে।অবৈধ কখন, যখন মারতে মারতে তাদের হাড়গোড় ভেঙে যাবে, কিংবা বড় কোনও আঘাত হবে। মানে হাড়গোড় না ভাঙা পর্যন্ত যথেচ্ছ মারধর করার অধিকার পুরুষদের দিচ্ছে তালিবান সরকার। আইনিভাবেই মেয়েদের উপর শারীরিক নির্যাতন করার পথ খুলে দিয়েছে তালিবানের নতুন আইন।তবে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সে দায়ী হলে অভিযুক্ত স্বামীকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আইন অনুযায়ী, কোর্টে গিয়ে কোনও স্ত্রী তার নির্যাতনের প্রমাণ দিলে, মানে ধরুণ হাড়ভাঙা রিপোর্ট, বড় কোনও ক্ষত এগুলো দেখালে স্বামীর শাস্তি হবে। কী শাস্তি, মাত্র ১৫ দিন কারাদন্ড হতে পারে। শুধু স্বামী নয়, বাড়ির যিনি প্রধান তিনিও বাড়ির বউ বাচ্চাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করতে পারেন। এই টর্চার বিচারযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটকে দিয়েই আওয়ামি লিগের এন্ট্রি, শাকিব-মোর্তাজা নিয়ে BNP-র তাত্‍পর্যপূর্ণ ইঙ্গিত

এই আইনে স্পষ্ট বলা হচ্ছে, স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের প্রপার্টি বা দাসি হিসেবে দাবি করতে পারে। মানে নারীরা এখন সেদেশে গোলাম। এমনকি কোনও স্ত্রী নিজের ইচ্ছেমতো নিজের বাড়ির কারও সঙ্গে দেখা করতেও পারবে না। তার জন্য লাগবে স্বামীর অনুমতি।স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যান, তাহলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে: ধর্মীয় পণ্ডিত (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। এই ব্যবস্থার অধীনে, একই অপরাধের শাস্তি আর প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রকৃতি বা তীব্রতার উপর ভিত্তি করে নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে হবে। নতুন ৯০ পৃষ্ঠার দণ্ডবিধি ২০০৯ সালে মার্কিন-সমর্থিত পূর্ববর্তী সরকার কর্তৃক মহিলার বিরুদ্ধে হিংসা নির্মূল (EVAW) আইন বাতিল করে। যারা এই কোডের বিরুদ্ধে কথা বললেও অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here