ওয়েবডেস্ক- প্রবল যুদ্ধ! সংঘাতের আবহে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা (America) ও ইজরায়েলের (Israel) যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু কেন্দ্র (Iran’s nuclear center) নাতান্জ (Natanz) এই খবর নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক নয় বলে খবর। জানা গেছে, নাতান্জ পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশের মুখে যে ভবনগুলি আছে সেগুলির ক্ষতি হয়েছে। অক্ষত আছে মাটির নীচে থাকা পরমাণু স্থাপণা। তবে কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (Radioactive radiation) হয়নি।
সোমবারই রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি আইএইএ-কে জানান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাতান্জ পরমাণুকেন্দ্র। রবিবারের হামলায় এই ঘটনা ঘটে।
গত রবিবারের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়ায়েলি আক্রমণে ইরানে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭। নিহতের তালিকায় স্বয়ং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন বলে খবর। নিহত খামেনেইর গোটা পরিবার। মৃত্যু হয়েছে খামেনেইর স্ত্রী মনসুরে খোজাসতেহ বাগেরজাদেহর।
আরও পড়ুন- খামেনেইয়ের পর পেজেকশিয়ান! আমেরিকার নিশানায় এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট!
উল্লেখ্য, নাতান্জ ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এটি গত কয়েক বছরে একাধিকবার হামলার নিশানা হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে নাতান্জ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে বহু সেন্ট্রিফিউজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরান এই ঘটনার জন্য সরাসরি ইজরায়েলকে দায়ী করেছিল। ২০২০ সালের জুলাই মাসে একটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে, যা স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি করে। ২০১০ সালে এই কেন্দ্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার ভাইরাস বা ‘ওয়ার্ম’ দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল, যা শত শত সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করে দিয়েছিল।
