কলকাতা: কসবার শিবিরে ভুয়ো ভ্যাকসিনে সম্ভবত অ্যামিকাসিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি অ্যামিনো গ্লাইকোসাইট গ্রুপের ড্রাগ। কিডনির অসুখ রয়েছে এ রকম রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য। বৃহস্পতি বার অভিযুক্ত দেবাঞ্জনের অফিসে তল্লাসি চালায় পুলিশ। সেখানে ফ্রিজারের ভিতর থেকে প্রচুর অ্যমিকাসিনের ভয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।
কসবার ক্যাম্প থেকে ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে এরই মধ্যে বহু মানুষ প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। কারও গায়ে হাত-পায়ে প্রবল ব্যথা। কারও বা মাথায় যন্ত্রণা। বেশ কয়েক জনের জ্বর এসেছে বলেও জানা গিয়েছে। আবার কারও ত্বকে চুলকানি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বক্তব্য, বড় ধরনের অসুস্থতা বা উপসর্গ নজরে আসেনি। কসবার ওই ক্যাম্পে প্রায় ২০০ জনের মত মানুষ ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে থেকে ৭০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে রাজ্য সরকার।
ভ্যাকসিন কাণ্ডের তদন্তে নেমে একাধিক তথ্য এসেছে পুলিশ এবং পুরকর্তাদের হাতে। ভ্যাকসিন ক্যাম্প করার নামে বেশ কিছু টাকা তুলেছেন অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেব। যেমন সরলা ডেভলপমেন্ট মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড। এই সংস্থার পক্ষ থেকে এনইএফটি-র মাধ্যমে ১ লক্ষেরও বেশি টাকা দেওয়া হয়েছিল দেবাঞ্জনকে। আরও বেশকিছু সংস্থার কাছ থেকে ভ্যাকসিন ক্যাম্প করার নাম করে টাকা তুলেছিলেন তিনি।
তদন্তকারীরা ক্যাম্প থেকে বহু অব্যহৃত ভ্যাকসিনের শিশি বা ভয়েল উদ্ধার করেছেন। নমুনা ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ভয়েলের গায়ে কোনও রকম ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট, ব্যাচ নাম্বার, কোম্পানির নাম, কন্টেনটস সম্পর্কে কোনও তথ্যই লেখা ছিল না। শিশিতে ছিল পাউডারের মত কিছু পদার্থ। যার সঙ্গে জল বা ডিসটিল্ড ওয়াটার বা ওই জাতীয় কিছু মিশিয়ে তাকে কোভিড ভ্যাকসিন বলে চালানো হয়েছে। কলকাতা পুরসভার ডেপুটি সিএমওএইচ ডক্টর রনিতা সেনগুপ্ত কলকাতা টিভির ডিজিটাল টিমকে এই কথা জানিয়েছেন।