কোভিড পুরোপুরি শেষ না হলেও সংক্রমণের আতঙ্ক এখন অনেকটাই কম। তাই প্রায় দু’বছর পর পঠন-পাঠনের জন্য খুলল স্কুল-কলেজ। এই নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে যেমন আনন্দ ও উত্তেজনা তেমন আবার অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে রয়েছে উত্কণ্ঠা। কোভিডকালে পঠন-পাঠনের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেই মত কোভিড নীতি বজায় রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির তত্পরতা ছিল তুঙ্গে। সামাজিক দূরত্ব সহ অন্যন্য কোভিড বিধি মেনেই ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হল প্রতিটি স্কুলেই। তবে এর মধ্যেই বিশেষ ভাবে নজর কাড়ল সল্টলেকের লবণহ্রদ বিদ্যাপীঠের অভিনব উদ্যোগ।
স্কুলে ছাত্রদের প্রবেশের পর তাদের দিয়ে কোভিড বিধিনিষেধের শপথ বাক্যপাঠ করানো হয়। মঙ্গলবার ছাত্রদের স্কুল প্রবেশের সময়ে, প্রথমে তারা সঠিক ভাবে মাস্ক পড়েছে কি না তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বডি টেম্পারেচার চেকের ব্যবস্থাও করা হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। এরপর লিকুইড সোপ দিয়ে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ছাত্ররা ক্লাসে পৌঁছলে তাদের দিয়ে কোভিড বিধিনিষেধের শপথ বাক্যপাঠ করানো হয়।
ছাত্রদের সতর্ক ও সচেতন করতে করোনা বিধির শপথ বাক্য পাঠ
করোনা সংক্রমণ রুখতে তাদের এই সাতটি নিয়মের শপথ বাক্যপাঠ করানো হয়-
বিদ্যালয়ের ভেতর মাস্ক পড়ে থাকতে হবে
সহপাঠীদের মধ্যে ২ গজের দূরত্ব বিধি মেনে চলতে হবে
অন্য ছাত্রদের সঙ্গে জল আদান প্রদান করা যাবে না।
ছাত্ররা তাদের নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অন্য কারও জায়গায় বসতে পারবে না
প্রয়োজন মত নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে
জ্বর কিংবা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা হলে বিদ্যালয় আসা চলবে না
বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় সকলকে হাতে স্যানিটাইজার দিতে হবে এবং শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
কোভিড সংক্রমণ নিয়ে ছাত্রদের এই ভাবে সতর্ক ও সচেতন করার বিষয়টিত খুশি অভিভাবকরা।
সময়ে কোভিড বিধি মেনে বিদ্যালয়ে প্রবেশ ছাত্রদের
শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা অনুযায় বর্তমানে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের পঠন পাঠন চলবে। করোনা পরিস্থিতি বুঝে ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণীর পঠন-পাঠনও চালু করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।