কলকাতা: করোনার কারণে বদলে গিয়েছে সমাজ। আগের মতো নেই অনেই কিছুই। আড্ডার পাশাপাশি কফি হাউসটাও আগের মতো নেই। আয় না থাকায় কোপ পড়েছে কর্মীদের বেতনে। এই অবস্থায় কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্যশালী কফি হাউস বাঁচাতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। কফি হাউসের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করল রাজ্যের সমবায় দফতর।
জানা গিয়েছে, কফি হাউসের উন্নতির জন্য ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে সমবায় দফতর। এই বিষয়ে রাজ্যে প্রশাসনের শীর্ষ দফতরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও মিলে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই ওই টাকা তুলে দেওয়া হবে কফি হাউস কর্তৃপক্ষের হাতে।
আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গরহাজির CBI, প্রশ্নের মুখে নিরপেক্ষতা
এই বিষয়ে কফি হাউস ইউনিয়নের সদস্য জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় কলকাতা টিভি ডিজিটাল-এর পক্ষ থেকে। কফি হাউসের কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “রাজ্য সরকারের সমবায় দফতর কফি হাউসের জন্য অর্হ মঞ্জুর করেছে শুনেছি। এখনও হাতে টাকা পায়নি। সেই টাকা পেলে অব্যশই ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা করা হবে।” প্রতিকূল সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
জাহিদ হোসেনের মুখেই শোনা গিয়েছে কফি হাউসের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা। করোনার কারণে এমনিতেই অবস্থা খারাপ হয়েছিল। পরে তা চালু হলেও জারি ছিল কড়া করোনা বিধি। সেই সঙ্গে ভাইরাসের আতঙ্কে জনসাধারণের যাতায়াত কমে গিয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে ভোটের সময়ে কিছুটা বিক্রি বাড়লেও পরে করোনা বিধিনিষেধ জারি হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিয়ম মেনে কফি হাউস চালু হলেও বেতন পেয়নি কর্মীরা।
করোনা রুখতে চলছে স্যানিটাইজেশন
এই বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেছেন, “কফি হাউস চালু হলেও বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। গত তিন মাস ধরে আমরা কফি হাউসের কর্মীরা কোনও বেতন পায়নি। অল্প কিছু আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। যা দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। সমবায় দফতরের সাহায্য পেলে সবাই বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন- মমতাকে অসম-ত্রিপুরায় রেড কার্পেটে স্বাগত জানানো হবে: হিমন্ত
ধর্মতলার কাছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে প্রথম কফি হাউস খোলা হয়েছিল ৪০-এর দশকের শুরুর দিকে। ইন্ডিয়ান কফি বোর্ডের উদ্যোগেই কিছুদিন পরে কলেজ স্ট্রিটে চালু হয় আরও একটি কফি হাউস। বইপাড়ায় অবস্থিত সেই কফি হাউস বঙালির সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯৫৭ সাল নাগাদ অ্যালবার্ট হল কফি-হাউস ইন্ডিয়ান কফি বোর্ডের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক সমব্যয়ের আওতায় আসে।