ওয়েবডেস্ক- ‘জলই জীবন’ এই শব্দটির সঙ্গে আমরা ছোট থেকেই পরিচিত। চিকিৎসকেরাও শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। জল (Drink Water) তো সকলেই পান করে, কিন্তু যে বোতলটি (Water Bottle) তার ব্যবহার করা হয় সেটি কতখানি বিজ্ঞানসম্মত? স্কুল কলেজ থেকে অফিস সকলের কাছেই থাকে জলের বোতল। বাজারে নানা রঙে হরেকরকমের পানীয় বোতল বিক্রি হতে দেখা যায়। সেগুলো কিনে একই বোতলে দিনের পর দিন জল পান করি। কিন্তু দৈনন্দির আর পাঁচটা কাজের মতো আমাদের কাজ অফিস থেকে স্কুল-কলেজ যাওয়ার আগে ওই জলের বোতলে জল ভরে ব্যাগে রেখে দিই। আর প্রতিদিনই সেই জলের বোতল থেকে জল পান করে যাচ্ছি। কতটা ক্ষতি করছি আমাদের শরীরের (Health) ?
বিজ্ঞান (Science) ও আয়ুর্বেদ (Ayurveda) উভয়ের মতে জল তখনই পানীয়ের উপযুক্ত যখন এটি পরিষ্কার উপযুক্ত পাত্রে রেখে খাওয়া হয়। যদি বোতল দীর্ঘ সময় ধরে অপরিচ্ছন্ন থাকে, সঠিকভাবে পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। জল একই বোতলে দুই বা তিনদিনের বেশি দিন রেখে দিলে সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পুরনো বা নোংরা বোতলে জীবাণু বৃদ্ধি পায়, যা পেট ব্যথা, বমি থেকে ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা একাধিক শারীরিক অসুস্থতার জন্ম দিতে পারে, যার জন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন- মুখে দিন এক টুকরো আদা, ম্যাজিক ঘটাবে আপনার শরীরে
তাই প্রতিদিন উচিত পানীয় জলের বোতলটিকে ধুয়ে পরিষ্কার করা। আয়ুর্বেদ অনুসারে, অপরিষ্কার জল শরীরে দোষের ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করা ছাড়াও শারীরিক দুর্বলতার জন্ম দিতে পারে। এমনকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বাড়তে সংক্রমণের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রতি ৬ থেকে ১২ মাস অন্তর প্লাস্টিকের বোতল বদলে ফেলতে হবে। কোনও বোতল থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে, দাগ বা আঁচড় দেখা দেয়, তাহলে তা অবিলম্বে পাল্টাতে হবে। বোতলটি প্রতিদিন সাবান এবং উষ্ণ জল দিয়ে ধুতে ফেলতে হবে।
এই বোতলগুলিকে প্লাস্টিকের বোতলের তুলনায় নিরাপদ বলে মনে করা হয়, কারণ এগুলিতে ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা কম।
আজকাল বাজারে স্টেইনলেস স্টিল (Stainless steel) ও কাচের বোতল (Glass Bottle) পাওয়া যায়, যা প্লাস্টিকের বোতলের থেকে অনেক নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলিতে ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা কম।
