Fourth Pillar | মোদিজি বলেছিলেন, এক কোটির চাকরি দেবো, পেয়েছেন মাত্র ৯৫ জন

0
31

ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে সরকারের নতুন নতুন প্রকল্প ঘোষণা গত এক দশক ধরে এক ১০০ শতাংশ ঠাট্টা-তামাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের মুখিয়া চওকিদার প্রধানমন্ত্রী রোজ, প্রতিদিন মিথ্যে বলেই চলেছেন, বলেই চলেছেন, মানুষ তা শুনতে শুনতে এখন ক্লান্ত। আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি আর ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে, পাতাজোড়া বিজ্ঞাপনের ছাপা হচ্ছে, আর নথিপত্র আর বাস্তব পরিসংখ্যানের গভীরে উঁকি দিলে ধরা পড়েছে এক করুণ ও ধূসর চিত্র। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সেই পরিসংখ্যানও মোদিজি লোপাট করে দিচ্ছেন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি পরের পর ‘মেগা-প্রজেক্ট’ ঘোষণা করেছেন। সেইসব প্রকল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ বা ‘স্মার্ট সিটি’। প্রতিটা প্রকল্পের সূচনা করেছেন মোদিজি নিজে, ধোপ দুরস্থ জামাকাপড় পরে, একই অনুষ্ঠানেও দু’বার পোশাক বদলিয়ে, চোখে কার্টিয়ের চশমা, পকেটে ম ব্লাঁ পেন, আর জমকালো অনুষ্ঠান, গ্রাফিক্সের কারুকাজ মোদিজির সামনের টেলিপ্রম্পটারে এক উজ্জ্বল ভারতের স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেইসব স্বপ্ন অধিকাংশই মাঝপথে পথ হারিয়েছে, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, বা সেসব প্রকল্পের কথা আর কেউ মুখেও আনছে না। এই ব্যর্থতার মিছিলে সর্বশেষ আর সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম’ (PMIS)। যেখানে ৫ বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রার কথা নিজের মুখে জানিয়েছিলেন মোদিজি। তথ্য বলছে, মাত্র ৯৫ জন যুবক শেষ পর্যন্ত চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। এটা ফাজলামো? এটা অপদার্থতা? এটা বাচালতা? এটা বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তামাশা? কোনটা?

মোদি সরকারের, মানে উনিজির ঘোষিত প্রকল্পগুলোর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্যই হল সেগুলোর বিশালতা বা ‘স্কেল’। মানে ‘মারি তো গন্ডার, লুটি তো ভান্ডার’, গোয়েবলসের ‘বিগ লাই’-এর তত্ত্ব, ‘এত্ত বড় মিথ্যে বল যে, মানুষ তা বুঝেই উঠতে পারবে না’। এক কোটি বেকারের চাকরি হবে, আপনি ভাববেন গুল দিলেও ৫০ লাখের তো হবে তাই বা কম কী? কারণ মোদি সরকার বিশ্বাসই করে যে, বড় ঘোষণা মানেই বড় পরিবর্তন। ক’দিন পরে এই প্রকল্পগুলো নাথবতী অনাথবৎ হয়ে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, মোদিজি আবার নতুন ঢপবাজিতে নেমে পড়েন। ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ মিশন ছিল এই রকম এক প্রকল্প। ভারতের বিশাল তরুণ জনসংখ্যাকে বিশ্বের শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা, কার্যকরী করে তোলার এক মহৎ আর মহান লক্ষ্য নিয়ে এটা শুরু হয়েছিল, হ্যাঁ, এরকমটাই বলেছিলেন আমাদের উনিজি। সেটা আজ কেবল একটা সার্টিফিকেট বেলানোর কারখানা হয়ে গিয়েছে। একইভাবে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নাকি ভারতকে বিশ্বের উৎপাদন কেন্দ্রে নিয়ে যাবে, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের স্থবিরতার কারণে তা আজ ডাস্টবিনে পড়ে আছে। এই প্রকল্পগুলো কেন ব্যর্থ হল? আসুন সেটা বুঝি, তাহলে বুঝতে পারব প্রধানমন্ত্রীর সাধের ইন্টার্নশিপ স্কিম কেন আজ মায়ের ভোগে।

২০১৫ সালে সাড়ম্বরে ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ মিশনের সূচনা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ২০২২ সালের মধ্যে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজে দক্ষ করে তোলা। কিন্তু সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যান আর বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট সম্পূর্ণ এক আলাদা ছবি তুলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (PMKVY) ছিল এই মিশনের প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু এই প্রকল্পের অধীনে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে মেলানোই যায়নি। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার বরাবরের মতোই প্রশিক্ষণের কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি, সংখ্যার উপর বেশি জোর দিয়েছে। তথ্য বলছে, ২০১৭-১৮ সালে যেখানে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ শতাংশ দুই বছরের বেশি দীর্ঘমেয়াদি কোর্স করতেন, ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪.২৯ শতাংশে। উল্টোদিকে, ছয় মাসের কম সময়ের কোর্স করার প্রবণতা ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে এমন এক বিশাল শিক্ষিত বেকার বাহিনী তৈরি হচ্ছে যাদের হাতে ‘দক্ষ’ হওয়ার সরকারি প্রমাণপত্র তো আছে, কিন্তু কাজ করার মতো প্রকৃত পেশাদারি দক্ষতা নেই। আবার এই ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ প্রকল্প থেকে যাঁরা পাশ করলেন বা সার্টিফিকেট পেলেন, তাঁদের চাকরি পাবার হারও হতাশাজনক। সরকারি তথ্য বলছে, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার প্রথম পর্যায়ে (PMKVY 1.0) প্লেসমেন্ট বা চাকরির হার ছিল মাত্র ১৮.৪ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে এটা সামান্য বেড়ে ২৩.৪ শতাংশ হলেও তৃতীয় পর্যায়ে তা নাটকীয়ভাবে কমে ১০.১ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রশিক্ষণের কোয়ালিটি এতটাই নিম্নমানের যে, শিল্পক্ষেত্রের মালিকরা এই সার্টিফিকেট পাওয়া যুবকদের চাকরি দিতে নারাজ।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | চীন এগোচ্ছে রকেট গতিতে, ভারত এখনও দেশের নাগরিক কারা, তাই ঠিক করে উঠতে পারেনি

এবারে আসুন দেখে নিই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের উদ্বোধন করে মোদিজি বলেছিলেন, ভারত বিশ্বের পরবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠবে। প্রকল্পের লোগো ছিল একটা যান্ত্রিক সিংহ, যা নাকি ভারতের শিল্পশক্তির প্রতীক। মোদিজির বয়ানে তিনটে প্রধান লক্ষ্য ছিল: ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১২-১৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়া, ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১০ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা আর জিডিপি-তে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এক দশক পরে এসে দেখা যাচ্ছে, সিংহের গর্জন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের অংশীদারিত্ব বাড়ার বদলে বরং কমেছে। ২০১৩-১৪ সালে এটা ছিল ১৬.৭ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৫.৯ শতাংশে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। ২০১১-১২ সালে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান ছিল ১২.৬ শতাংশ, যা গত এক দশকে ক্রমাগত নীচে নেমেছে। আইএলও (ILO)-এর ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’ বলছে ‘স্থবির কাঠামোগত রূপান্তর’ মানে সব থমকে গিয়েছে, যেখানে মানুষ কৃষি থেকে বেরিয়ে শিল্পে যোগ দেওয়ার বদলে হয় অসংগঠিত পরিষেবা ক্ষেত্রে ঢুকছে বা আবার কৃষিতেই ফিরে যাচ্ছে।

এবারে আসুন আগের প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার এই বিশাল প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে আমরা এবারে প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম বা পিএমআইএস (PMIS)-এর দিকে তাকাই। এখানে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর। ২০২৪-২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল এক বিশাল টার্গেট নিয়ে। বলা হয়েছিল, পরবর্তী পাঁচ বছরে ভারতের টপ-মোস্ট ৫০০টা কোম্পানিতে ১ কোটি যুবককে ১২ মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা ভাতা আর এককালীন ৬০০০ টাকা দেওয়া হবে। বেকার তরুণদের মনে জ্বলেছিল ৫০০ ওয়াটের বাল্ব। আশার আলো জাগানো হয়েছিল বটে, কিন্তু পাইলট প্রজেক্ট, প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য সামনে আসতেই সেই আশার আলো নিভে গিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষ আর জুন মালিয়ার লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা তথ্য দিয়েছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শেষে সারা ভারতে মাত্র ৯৫ জন ইন্টার্ন তাদের নিয়োগকারী সংস্থা থেকে স্থায়ী চাকরির প্রস্তাব বা অফার লেটার পেয়েছেন। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি, সেখানে মাত্র ৯৫ জন চাকরির প্রস্তাব পাওয়া মানে আদতে কোনও পরিকল্পনাই ছিল না, এটা ছিল একটা ঠাট্টা, বেকারদের নিয়ে তামাশা। মোদিজি মিথ্যে বলেছিলেন, একটা কথাও সত্যি ছিল না। এই ৯৫ জনের সংখ্যার অ্যানালিসিস করলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের বিশাল বিশাল সব কর্পোরেট হাউজগুলো এই প্রকল্পে অংশ নিতে চূড়ান্ত অনীহা দেখিয়েছে। তথ্য বলছে, মাত্র ১৭টা কোম্পানি এই অফার লেটারগুলো ইস্যু করেছে। এর মধ্যে মুথুট ফিন্যান্স একাই ৩২টা অফার লেটার দিয়েছে। এরপর রয়েছে টেক মাহিন্দ্রা (২০টা), মানাপ্পুরাম ফিন্যান্স (১৪টা), আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক (৭টা) আর ডঃ রেড্ডিস ল্যাব (৫টা)। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, অফার লেটার দেওয়া এই তালিকার এক্কেবারে উপরে রয়েছে আর্থিক লগ্নিকারী সংস্থাগুলো, ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন। ভারতের যে বিশাল ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের নাম করে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নেই, কার্যত অনুপস্থিত। সরকারি খাতের একমাত্র সংস্থা হিসেবে ওএনজিসি (ONGC) মাত্র একজন ইন্টার্নকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে।

কেন ভারতের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানি এই প্রকল্পে আগ্রহী হচ্ছে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ বা ‘স্কিল ইন্ডিয়া’র ব্যর্থতার মধ্যেই। শিল্পমালিকরা মনে করছেন, এই ইন্টার্নশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে আসা যুবকদের মধ্যে কাজের দক্ষতাই নেই। কোম্পানিগুলো এই ১২ মাসের সময়কালকে কেবল একটা দায়সারা প্রশিক্ষণ হিসেবেই দেখছে, কর্মসংস্থান হিসেবে নয়। ফলে ১ বছরের ইন্টার্নশিপ শেষে যুবকরা আবার বেকারত্বের সারিতে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিমের আরেকটা বড় সমস্যা হল ড্রপআউট রেট বা কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার উচ্চ হার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা ইন্টার্নশিপ শুরু করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ৬,৬১৮ জন শিক্ষার্থী ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কেন এই বিপুল সংখ্যক যুবক কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন? লোকসভায় পেশ করা তথ্যে বলা হয়েছে, ইন্টার্নরা প্রধানত তিনটে কারণে পিছু হটছেন: ৫-১০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে যাতায়াত করতে না চাওয়া, ১২ মাসের দীর্ঘ সময়কাল, আর নিজেদের পছন্দের কাজের ভূমিকা না পাওয়া। সহজ চলতি বাংলায় বলতে গেলে, এক জন বেকার যুবক যখন দেখছেন যে ৫০০০ টাকার ভাতার জন্য তাঁকে অনেকটা দূরে গিয়ে ১২ মাস ধরে এমন কাজ করতে হচ্ছে, যার সাথে তাঁর পড়াশোনার কোনও মিল নেই, তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া ১ বছর সময় ধরে ওই ফালতু ট্রেনিং নেওয়াটা অনেক ছাত্রের কাছেই অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হচ্ছে, কারণ তাঁরা মনে করছেন, এই এক বছর অন্য কোনও পড়াশোনা বা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিলে তাঁদের ভবিষ্যৎ বেশি উজ্জ্বল হবে। এই ইন্টার্নশিপগুলো আদতে তাঁদের কেরিয়ারে কোনও স্থায়ী মূল্য যোগ করতে পারছে না।

প্রথম আর দ্বিতীয় দফার পাইলট প্রজেক্টের পরিসংখ্যা দেখলে যুবকদের এই অনিচ্ছা, এই প্রকল্পে না আসতে চাওয়া বা মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়াটা আরও স্পষ্ট। প্রথম দফায় ১.২৭ লক্ষ ইন্টার্নশিপের সুযোগের জন্য ৬.২১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কোম্পানিগুলো ৮২,০০০ অফার লেটার ইস্যু করলেও মাত্র ৮,৭০০ জন ইন্টার্নশিপে যোগ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় আরও ১.১৮ লক্ষ সুযোগের জন্য আবেদন এলেও সেখানেও যোগদানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭,৩০০ জনের মতো। মোট ৫২,৬০০ জন আবেদনপত্র গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬,০৬০ জন ইন্টার্নশিপে যোগ দেন। মানে অঙ্ক বলছে অফার, যা দেওয়া হয়েছিল, তার মাত্র ৩০ শতাংশ বাস্তবে কার্যকর হয়েছে। এর মানে খুব পরিষ্কার, সেই তরুণরা আবেদন করলেও কাজ, ভাতা আর শর্তগুলো দেখার পর ‘টা টা বাই বাই’ বলে চলে গিয়েছেন। সবচেয়ে চমকে দেবে এই প্রকল্পের জন্য আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য এই প্রকল্পের জন্য ১০,৮৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ৭৩.৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বাজেটের এক শতাংশও খরচ করা সম্ভব হয়নি। সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে থাকা একদিকে যেমন প্রশাসনিক অযোগ্যতার প্রমাণ, অন্যদিকে এইসব ঘোষণা যে মোদিজির বুকনিবাজি, দেশের কোটি কোটি বেকার যুবকের সাথে প্রতারণা তা আজ পরিষ্কার।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here