CJP-র প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি, মোদি-আরএসএসকে নিশানা করে কী বললেন রাহুল গান্ধী?

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : দিল্লিতে কক্‌রোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির (CJP) প্রতিবাদ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উত্তাল দিল্লি (Delhi)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা, কর্মী, আইনজীবীসহ একাধিকজনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে চেন্নাই থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বিজেপিকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।

এদিন চেন্নাইয়ে মুখোমুখি হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগমের (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয়। শনিবার বিজয়ের নীলাঙ্কারাইয়ের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে মিলিত হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল (Rahul Gandhi)। বিজয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের পর চেন্নাইয়ের আইল্যান্ড গ্রাউন্ডসে কংগ্রেসের যুব সংযোগ কর্মসূচি ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ বা তামিল ভাষায় ‘মানাভারগালিন কুরল’-এ অংশ নেন রাহুল। তার আগে বিজেপি সহ কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষাষ আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা।

আরও খবর :    বিমানের ভিতরেই আটক ছেলে, ‘ওর কিছু হলে দায় নিতে হবে সরকারকে’, ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিজিৎ দীপকের মা

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ভিডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, “এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি নরেন্দ্র মোদি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। একজন প্রতিপক্ষকে যেমন ভিতর থেকে চেনা যায়, ঠিক তেমনই আমি ওদের চিনি। ওদের সম্পর্কে আমার সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। এই মানুষগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ভীরুতা। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার এবং অজিত ডোভাল, এই ঘটনার খলনায়কেরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন, তাঁদের ঘিরে থাকা রাজনৈতিক পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আর সেই পরিসর আমরা সংকুচিত করছি। মিস্টার মোদি, আপনি যা খুশি করতে পারেন। যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, যত ইচ্ছা। সব নেতাকে গ্রেফতার করুন। সব তরুণকে গ্রেফতার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেফতার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি এবং পিছিয়ে আসার কোনও প্রশ্নই নেই। আমার কথা মনে রাখবেন, আমাদের যা তথ্য প্রয়োজন, তা ইতিমধ্যেই আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা আমাদের সংবিধান রক্ষা করব। ভারতের মানুষের কণ্ঠস্বরকে সুরক্ষিত রাখব। আর গত ১০-১৫ বছরে ভারতের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা যাতে আর কখনও না ঘটে, তা নিশ্চিত করব। ভারতের তরুণ প্রজন্ম, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে রয়েছি। আমরা নিশ্চিত করব, এই শাসনব্যবস্থা এবং যাঁরা আমাদের সংবিধানের উপর আঘাত হেনেছেন, তাঁরা পরাজিত হবেন।”

 

উল্লেখ্য, এদিন ভোটচুরি বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ায়। ১০ অক্টোবর শনিবার সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক নেতা, আন্দোলনকারীদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দরেই তাঁদের আটক করা হয় তাঁদের। অন্যদিকে, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে প্রতিবাদে বসার পর তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয় । তাঁর সঙ্গে আটক হন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা মণ্ডল, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলে। এছাড়া বাম নেতা পিনারাই বিজয়ন, বৃন্দা কারাট সহ আরও অনেককে হয়েছে। এ নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাহুল।

Latest News

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ১৫০০-র বেশি আটক, ধৃত মমতা-কেজরিওয়াল-সহ চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

ওয়েব ডেস্ক : ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই...

More Articles Like This