ওয়েব ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে (Jadavpur University) ঘিরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন এবং ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আরজি কর হাসপাতালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমিউনিস্ট ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উঠতে হবে। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ স্লোগান তোলার বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কর্মীদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “কমিউনিস্ট লোক, দিমাগি নকশাল, দেশবিরোধী শক্তিদের চিনে চিনে ধ্বংস করতে হবে। এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নেমে চিনে চিনে শিকড় উপড়ে ফেলুন।” বামপন্থী রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উঠবে। যাদবপুরের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কী আজাদি?”
আরও খবর : বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলায় গ্রেফতার অভিযুক্ত, আদালতে জানাল রাজ্য
কাশ্মীর প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যে কাশ্মীরের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছিল, সেই কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পক্ষে সওয়াল করে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জাতীয়তাবাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগের প্রসঙ্গ।
শুভেন্দুর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাও। গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্যাম্পাসে অশান্তি ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে দুই পক্ষের তরফেই কর্মসূচি নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিজেপির উদ্যোগে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায়ও বক্তব্য রেখেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিজেপির ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ ঘিরেও রাজনৈতিক চর্চা তৈরি হয়।
শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালে এবিভিপির সম্মেলনে সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ফের বামপন্থী রাজনীতিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সেন্টার অফ এক্সিলেন্স যাদবপুর মিছিল করে আজাদি আজাদি। কী আজাদি?” তাঁর বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনির মাধ্যমে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি এবিভিপির সঙ্গে থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
এ দিন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীদের দায়ী করে পোস্ট করা হলে তা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হতে পারে। তাঁর দাবি, এ ধরনের মন্তব্য সনাতনী হিন্দু সমাজকে অপমান করেছে। হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।
