ওয়েব ডেস্ক : মহাকাশ থেকে আসা রহস্যময় নিউট্রিনো কণার সন্ধানে যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতি পেলেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ ফ্রান্সিস হালজেন (Francis Halzen)। ২০২৬ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) দেওয়া হল তাঁকে। অ্যান্টার্কটিকার বরফের নীচে তৈরি বিশাল আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
নিউট্রিনোকে অনেক সময় ‘ভূতুড়ে কণা’ বলা হয়। কারণ এই কণার ভর অত্যন্ত কম এবং বৈদ্যুতিক আধান নেই। ফলে গ্রহ, নক্ষত্র এমনকি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়েও প্রায় বাধাহীনভাবে চলে যেতে পারে। প্রতি সেকেন্ডে বিপুল সংখ্যক সৌর ও মহাজাগতিক নিউট্রিনো আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। কিন্তু তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। হালজেনের পরিকল্পনায় অ্যান্টার্কটিকার স্বচ্ছ বরফকে বিশাল প্রাকৃতিক ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
আরও খবর : ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত জেফ্রি আর্চার, শেষ হল কিংবদন্তি লেখকের দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রা
১৯৮৮ সালে হালজেন (Francis Halzen) প্রথম আইসকিউব প্রকল্পের ধারণা দেন। দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে বসানো সেন্সরগুলির মাধ্যমে নিউট্রিনো কোনও পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ধাক্কা মারলে তৈরি হওয়া ক্ষীণ আলোর ঝলক শনাক্ত করা হয়। এই পর্যবেক্ষণ থেকে উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিস্ফোরিত নক্ষত্র, দূরবর্তী ছায়াপথ এবং কৃষ্ণগহ্বরের মতো মহাজাগতিক উৎস সম্পর্কে নতুন করে জানার পথও খুলেছে এই গবেষণা।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর ৮২ বছরের হালজেন জানান, পুরস্কারটি তাঁর কাছে বড় চমক। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর নতুন গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন পেতেও সহায়ক হতে পারে। আইসকিউব প্রকল্পে শত শত বিজ্ঞানী ও গবেষক কাজ করলেও নোবেল কমিটির তরফে হালজেনের প্রাথমিক ভাবনা ও নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মহাবিশ্বকে বোঝার জন্য নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণ যে একেবারে নতুন একটি পথ খুলে দিয়েছে, সেটিই তাঁর গবেষণার অন্যতম বড় অবদান।
