রানাঘাট: বয়স মাত্র ১০ বছর। আর এই বয়সেই নিজের হাতের সৃষ্টিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রানাঘাটের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বিজ্ঞশ্রী বিশ্বাস। ক্লে, কাগজ, রং আর তুলি দিয়ে নিজের হাতে প্রায় ৮ ইঞ্চি উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছে সে। ছোট্ট শিল্পীর তৈরি সেই প্রতিমা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে পরিবার ও পরিচিতদের।
রানাঘাটের রূপশ্রী পল্লির বাসিন্দা বিজ্ঞশ্রী দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর গার্লসের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা ও হাতের কাজেই অবসর কাটাতে পছন্দ করে সে। ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। গত দু’বছর ধরে শিল্পী সঞ্জু কুণ্ডুর কাছে নিয়মিত ছবি আঁকার প্রশিক্ষণও নিচ্ছে বিজ্ঞশ্রী।
সেই শিল্পচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজেও ধীরে ধীরে আগ্রহ তৈরি হয় তার। এ বার সেই আগ্রহ থেকেই দুর্গাপ্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেয় খুদে শিল্পী। প্রায় দু’মাস ধরে ধাপে ধাপে তৈরি করেছে আট ইঞ্চির প্রতিমাটি।
ক্লে ও কাগজকে মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিমার কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গের রূপ দেওয়া, রং করা এবং সাজসজ্জা—সবটাই নিজের হাতে করেছে বিজ্ঞশ্রী। পড়াশোনার সময়ের সঙ্গে কোনও আপস না করে প্রতিদিন অবসর থেকে সময় বার করেই প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে গিয়েছে সে।
এর আগেও ক্লে দিয়ে বিভিন্ন খাবারের মডেল তৈরি করেছে বিজ্ঞশ্রী। তবে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। মেয়ের এই সৃষ্টিশীল কাজে শুরু থেকেই পাশে রয়েছে পরিবার।
বিজ্ঞশ্রীর বাবা পাওয়ারলুম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা বৈশাখী বিশ্বাস সাহিত্যচর্চা করেন। তাঁদের কথায়, পড়াশোনার পাশাপাশি মেয়েকে নিজের পছন্দের সৃষ্টিশীল কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। মোবাইল বা গ্যাজেটের বদলে ছবি আঁকা, হাতের কাজ এবং নতুন কিছু তৈরির দিকেই বেশি আগ্রহ বিজ্ঞশ্রীর।
ভবিষ্যতে আর্ট ও ক্রাফট নিয়ে আরও কাজ করতে চাইলে মেয়েকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পরিবার। বৈশাখী বিশ্বাসের বার্তা, ছোটদের হাতে শুধু মোবাইল না দিয়ে সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহ দিলে ছোট থেকেই তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটবে।
